Dhaka , বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি এমপির দীর্ঘ ১৪ মাস পর নাফিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনঃতদন্তে সিআইডি রুহুল কবির রিজভী বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত হওয়ায় এডভোকেট আবেদ রাজার ফুলেল শুভেচ্ছা দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতৃত্বের মূল্যায়ন চান বিএনপি নেতা কর্মধার হাজী ফজলুল হক রুবেল প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যা: বাবার মৃত্যুদণ্ড কুলাউড়া কর্মধা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবদল নেতা মোস্তাক আন্তঃকলিমাবাদ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে এনামুল সিদ্দিক একাদশ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক খালেদকে হেনস্তা ও হুমকির ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ভাটেরিয়ান সিলেটের অন্তরঙ্গ আয়োজনে প্রবাসী শামীম ও আমিনুরকে সংবর্ধনা

দীর্ঘ ১৪ মাস পর নাফিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনঃতদন্তে সিআইডি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১৫ ঘন্টা আগে
  • ১৫ Time View

স্টাপ রিপোর্টার:

শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী নাফিসা জান্নাত আনজুম হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক বছর দুই মাস পর নতুন মোড় এসেছে। মামলার সর্বশেষ চার্জশিটে সন্তুষ্ট না হয়ে আইনজীবী এডভোকেট কামরুল ইসলামের করা নারাজি আবেদনের পর মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

২০২৫ সালের ১২ জুন প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নাফিসা জান্নাত আনজুম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। দুই দিন পর, ১৪ জুন বাড়ির পাশের একটি নালা থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর নাফিসার পরিবার, সহপাঠী, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ঘটনার পরদিন সন্দেহভাজন হিসেবে জুনেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

নাফিসা হত্যার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলার আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেন কুলাউড়ার আইনজীবী এডভোকেট কামরুল ইসলাম। মামলার তদন্ত চলাকালে একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। দীর্ঘ সময় পর মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হলেও এতে নাফিসার মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন এডভোকেট কামরুল ইসলাম।

নারাজি আবেদনে তিনি মামলাটির অধিকতর নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও প্রমাণনির্ভর তদন্তের দাবি জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট ২০২৬ আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা নাফিসা হত্যা মামলাটি আবারও তদন্তের আওতায় এসেছে। সিআইডির পুনঃতদন্তে নাফিসার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, আগের তদন্তে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।

এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে রক্ষা বা হয়রানি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নাফিসার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য।

এখন নাফিসার পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সিআইডির পুনঃতদন্ত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও প্রমাণনির্ভর। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুলাউড়ায় যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি এমপির

দীর্ঘ ১৪ মাস পর নাফিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনঃতদন্তে সিআইডি

Update Time : ১৫ ঘন্টা আগে

স্টাপ রিপোর্টার:

শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী নাফিসা জান্নাত আনজুম হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক বছর দুই মাস পর নতুন মোড় এসেছে। মামলার সর্বশেষ চার্জশিটে সন্তুষ্ট না হয়ে আইনজীবী এডভোকেট কামরুল ইসলামের করা নারাজি আবেদনের পর মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

২০২৫ সালের ১২ জুন প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নাফিসা জান্নাত আনজুম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। দুই দিন পর, ১৪ জুন বাড়ির পাশের একটি নালা থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর নাফিসার পরিবার, সহপাঠী, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ঘটনার পরদিন সন্দেহভাজন হিসেবে জুনেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

নাফিসা হত্যার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলার আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেন কুলাউড়ার আইনজীবী এডভোকেট কামরুল ইসলাম। মামলার তদন্ত চলাকালে একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। দীর্ঘ সময় পর মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হলেও এতে নাফিসার মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন এডভোকেট কামরুল ইসলাম।

নারাজি আবেদনে তিনি মামলাটির অধিকতর নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও প্রমাণনির্ভর তদন্তের দাবি জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট ২০২৬ আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা নাফিসা হত্যা মামলাটি আবারও তদন্তের আওতায় এসেছে। সিআইডির পুনঃতদন্তে নাফিসার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, আগের তদন্তে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।

এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে রক্ষা বা হয়রানি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নাফিসার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য।

এখন নাফিসার পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সিআইডির পুনঃতদন্ত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও প্রমাণনির্ভর। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—