Dhaka , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী কুলাউড়ায় কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ভূকশিমইলে শশার কান্দি মানব সেবা সংগঠনকে কাতার প্রবাসী ফজলুল করিম ফজলুর ৬০টি টি-শার্ট উপহার কুলাউড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগে জঙ্গল এর একটি অংশ পরিষ্কার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে নজরুল শতবর্ষ উদযাপন আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তিতে কবি, সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষকদের মিলনমেলা কুলাউড়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কুলাউড়ার ঠিকাদার আব্দুল হাসিব বাচ্চুর ইন্তেকাল কমলগঞ্জে আদমপুর বাজারে নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে রোড ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও রেলী অনুষ্ঠিত।

ভাটেরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: পানির সংকটে মসজিদ ও হোটেল, নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজের মালামাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৯৭ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া | ৫ এপ্রিল ২০২৬
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গতকাল রাত থেকে ভাটেরা স্টেশন বাজার ও ভাটেরা বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ:
বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজিং আইটেম বা পচনশীল পণ্যগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দোকানদাররা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা মন্দা, তার ওপর যদি নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকে তবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।”
পানির তীব্র সংকট:
বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে। মসজিদে অজুর পানি না থাকায় মুসল্লিরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এমনকি টয়লেট ও শৌচাগারগুলোতে পানির অভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্রাহকদের ক্ষোভ ও কর্মকর্তাদের ‘লোকবল’ অজুহাত:
সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল ঠিকই আদায় করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কিন্তু সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ফোন করা হলে তারা ‘লোকবল সংকট’ এর অজুহাত দেন। গ্রাহকদের প্রশ্ন— “বিল দেওয়ার সময় তো আমরা কোনো অজুহাত দেই না, তাহলে সেবা দেওয়ার সময় কেন বারবার মানুষ সংকটের কথা শুনতে হবে?”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের অবহেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য বৃষ্টি বা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাটেরা ও স্টেশন বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী

ভাটেরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: পানির সংকটে মসজিদ ও হোটেল, নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজের মালামাল

Update Time : ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া | ৫ এপ্রিল ২০২৬
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গতকাল রাত থেকে ভাটেরা স্টেশন বাজার ও ভাটেরা বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ:
বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজিং আইটেম বা পচনশীল পণ্যগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দোকানদাররা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা মন্দা, তার ওপর যদি নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকে তবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।”
পানির তীব্র সংকট:
বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে। মসজিদে অজুর পানি না থাকায় মুসল্লিরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এমনকি টয়লেট ও শৌচাগারগুলোতে পানির অভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্রাহকদের ক্ষোভ ও কর্মকর্তাদের ‘লোকবল’ অজুহাত:
সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল ঠিকই আদায় করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কিন্তু সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ফোন করা হলে তারা ‘লোকবল সংকট’ এর অজুহাত দেন। গ্রাহকদের প্রশ্ন— “বিল দেওয়ার সময় তো আমরা কোনো অজুহাত দেই না, তাহলে সেবা দেওয়ার সময় কেন বারবার মানুষ সংকটের কথা শুনতে হবে?”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের অবহেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য বৃষ্টি বা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাটেরা ও স্টেশন বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ।