Dhaka , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী কুলাউড়ায় কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ভূকশিমইলে শশার কান্দি মানব সেবা সংগঠনকে কাতার প্রবাসী ফজলুল করিম ফজলুর ৬০টি টি-শার্ট উপহার কুলাউড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগে জঙ্গল এর একটি অংশ পরিষ্কার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে নজরুল শতবর্ষ উদযাপন আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তিতে কবি, সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষকদের মিলনমেলা কুলাউড়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কুলাউড়ার ঠিকাদার আব্দুল হাসিব বাচ্চুর ইন্তেকাল কমলগঞ্জে আদমপুর বাজারে নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে রোড ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও রেলী অনুষ্ঠিত।

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হ’ত্যা’র ১ বছর: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার ওএলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ৩৩৩ Time View

স্টাফ রিপোর্টার:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী নাফিসা জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডের ১ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। এক বছর আগে আজকের এই দিনে (১২ জুন) প্রাইভেট পড়তে গিয়ে বখাটের নৃশংসতার শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আনজুম। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আনজুমের পরিবার, সহপাঠী এবং কুলাউড়াবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ জুন সকালে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আনজুম। নিখোঁজের দুদিন পর, অর্থাৎ ১৪ জুন বাড়ির পাশের একটি ছড়া (খাল) থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। এই ঘটনায় আনজুমের বাবা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিবেশী বখাটে মো. জুনেল মিয়াকে (৩৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, জুনেল দীর্ঘদিন ধরে আনজুমকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে নির্জন রাস্তায় আনজুম তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চিৎকার দিলে জুনেল তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ জঙ্গলে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে জুনেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত, আনজুমের বোরকা, স্কুলব্যাগ ও বই-খাতা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর আসামি জুনেলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো ঝুলে রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও বিচার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আনজুমের পরিবার জানায়, “আমরা ভেবেছিলাম দ্রুততম সময়ে খুনি জুনেলের ফাঁসি হবে। কিন্তু এক বছর হয়ে গেল, এখনো আমরা শুধু আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। আমরা দ্রুত এই নরপিশাচের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চাই।”
আনজুম হত্যার এক বছর পূর্তিতে কুলাউড়ার সামাজিক সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। খুনি জুনেলের ফাঁসির দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি ও আলামত মেলার পরও কেন বিচার দীর্ঘায়িত হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। অবিলম্বে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার রায় ঘোষণা করে কুলাউড়ার মেয়ে আনজুম হত্যার বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হ’ত্যা’র ১ বছর: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার ওএলাকাবাসী

Update Time : ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী নাফিসা জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডের ১ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। এক বছর আগে আজকের এই দিনে (১২ জুন) প্রাইভেট পড়তে গিয়ে বখাটের নৃশংসতার শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আনজুম। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আনজুমের পরিবার, সহপাঠী এবং কুলাউড়াবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ জুন সকালে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আনজুম। নিখোঁজের দুদিন পর, অর্থাৎ ১৪ জুন বাড়ির পাশের একটি ছড়া (খাল) থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। এই ঘটনায় আনজুমের বাবা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিবেশী বখাটে মো. জুনেল মিয়াকে (৩৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, জুনেল দীর্ঘদিন ধরে আনজুমকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে নির্জন রাস্তায় আনজুম তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চিৎকার দিলে জুনেল তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ জঙ্গলে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে জুনেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত, আনজুমের বোরকা, স্কুলব্যাগ ও বই-খাতা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর আসামি জুনেলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো ঝুলে রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও বিচার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আনজুমের পরিবার জানায়, “আমরা ভেবেছিলাম দ্রুততম সময়ে খুনি জুনেলের ফাঁসি হবে। কিন্তু এক বছর হয়ে গেল, এখনো আমরা শুধু আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। আমরা দ্রুত এই নরপিশাচের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চাই।”
আনজুম হত্যার এক বছর পূর্তিতে কুলাউড়ার সামাজিক সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। খুনি জুনেলের ফাঁসির দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি ও আলামত মেলার পরও কেন বিচার দীর্ঘায়িত হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। অবিলম্বে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার রায় ঘোষণা করে কুলাউড়ার মেয়ে আনজুম হত্যার বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।