
কুলাউড়া টুডে ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি গ্রিনে একদিনের জন্য যেন বসেছিল কুলাউড়ারই মিলনমেলা। মাঠজুড়ে ফুটবলের উত্তেজনা, গ্যালারিতে নিজ নিজ এলাকার দলের পক্ষে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আর প্রবাসে থাকা কুলাউড়াবাসীর পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘আন্তঃ কুলাউড়া উপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’।
দিনব্যাপী জমজমাট লড়াই শেষে ফাইনালে ভাটেরা ইউনিয়নকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুলাউড়া পৌরসভা। আর রানার্সআপ হয়েছে ভাটেরা ইউনিয়ন।
১১ দলের অংশগ্রহণে দিনভর ফুটবল উৎসব
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুলাউড়া স্পোর্টিং ক্লাব ইউকে-এর উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি গ্রিন অ্যাস্ট্রোটার্ফ মাঠে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিনিধিত্বকারী মোট ১১টি দল এতে অংশ নেয়। সকাল থেকেই মাঠে শুরু হয় ফুটবলপ্রেমীদের আনাগোনা। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে কুলাউড়ার প্রবাসীরা এসে জড়ো হন স্টেপনি গ্রিনে।
নিজ নিজ এলাকার দলের জার্সি পরে দর্শকদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে দেয় ভিন্নমাত্রা। খেলা চলাকালে গ্যালারি থেকে ভেসে আসে করতালি, স্লোগান ও উচ্ছ্বাস। প্রবাসের মাটিতে এমন আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় কুলাউড়ার পরিচিত উৎসবের আবহ।
মাঠে লড়াই, বাইরে মিলনমেলা
টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ। নিজেদের দলকে সমর্থন দিতে দর্শকরাও ছিলেন সরব। তবে প্রতিযোগিতার উত্তাপের পাশাপাশি আয়োজনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রবাসী কুলাউড়াবাসীর পারস্পরিক মিলন।
দীর্ঘদিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হয় পুরোনো বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতজনদের। খেলার ফাঁকে চলে কুশল বিনিময়, স্মৃতিচারণ ও আড্ডা। ফলে ফুটবল মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে আয়োজনটি পরিণত হয় প্রবাসী কুলাউড়াবাসীর এক বড় সামাজিক মিলনমেলায়।
ফাইনালে মুখোমুখি পৌরসভা-ভাটেরা
দিনের শেষভাগে টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় কুলাউড়া পৌরসভা ও ভাটেরা ইউনিয়ন।
শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে। বল দখল, আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ফাইনালের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। দুই দলের সমর্থকদের উৎসাহে মুখর হয়ে ওঠে স্টেপনি গ্রিনের পরিবেশ।

তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় কুলাউড়া পৌরসভা। ১-০ গোলের ব্যবধানে ভাটেরা ইউনিয়নকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে পৌরসভা দল।
ফাইনাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে রানার্সআপের মর্যাদা নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভাটেরা ইউনিয়ন।
শিরোপার বাইরেও বড় হয়ে উঠল সম্প্রীতি
টুর্নামেন্টের ফলাফলের পাশাপাশি আয়োজনটির সামাজিক দিকও ছিল উল্লেখযোগ্য। কুলাউড়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার মানুষকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে প্রবাসে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।
মাঠে দলগুলো ছিল প্রতিপক্ষ; কিন্তু মাঠের বাইরে সবাই ছিলেন একই এলাকার মানুষ। সেই পরিচয়ই পুরো আয়োজনজুড়ে ফুটে ওঠে।
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও জন্মভূমির মানুষের সঙ্গে এমন মিলন কুলাউড়ার প্রতি প্রবাসীদের টান ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
একদিনের জন্য লন্ডনেই যেন কুলাউড়া
স্টেপনি গ্রিনের ফুটবল মাঠে রোববারের দৃশ্যটি ছিল অনেকটা ভিন্ন। লন্ডনের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও সেখানে অনুভূত হয়েছে কুলাউড়ার মাঠ-ঘাট, পরিচিত মুখ আর এলাকার মানুষের আন্তরিকতার আবহ।
কেউ এসেছেন দলের সমর্থনে, কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে, আবার কেউ এসেছেন প্রবাসে কুলাউড়ার এই মিলনমেলার অংশ হতে।
একটি ট্রফির জন্য ফুটবল মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও দিনশেষে জয় হয়েছে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের। কুলাউড়া পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন হলেও স্টেপনি গ্রিনের এই আয়োজন প্রবাসী কুলাউড়াবাসীর কাছে হয়ে থাকল মিলন, স্মৃতি ও শিকড়ের টানের এক আনন্দঘন দিন।
আয়োজকদের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের।

শেখ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী 























