
জুড়ী প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল কালাম বুলুচান্দ ওরফে বলাই মিয়া (৩৯) হত্যার ঘটনায় এক নারী ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের মরদেহ জুড়ী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে পুলিশ মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার আছমা বেগম (৩৮) ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তার (১৮)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে ভাসমান অবস্থায় আবুল কালামের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা মরদেহটি কালামের বলে শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আবুল কালাম পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড় ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাম দুইটি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আছমা বেগমের ননদ। আছমার স্বামী বশির আহমদ মারা যাওয়ার পর তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরিবারের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে সেটি ভাড়ায় চালানোর জন্য কালামকে দেন। এ কারণে আছমাদের বাড়িতে কালামের নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে আছমা বেগমের সঙ্গে কালামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে কালাম আছমাদের বাড়িতে যাওয়ার পর আর নিজ বাড়িতে ফেরেননি। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ী নদীতে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে কালামের গলায় একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে আছমা বেগম ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কালাম আছমা বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আছমা বেগম দা দিয়ে কালামকে তিনটি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, পরে আছমা তাঁর মেয়ে লিমাকে সঙ্গে নিয়ে মরদেহটি কলাগাছের ভেলায় বেঁধে বাড়ির পাশের একটি খালে ফেলে দেন। পরবর্তীতে সেটি ভেসে জুড়ী নদীতে গিয়ে পৌঁছায় বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ।
আছমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা ও নিহত কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি মামলার তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Reporter Name 






















