Dhaka , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিসচা কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগ কমলগঞ্জ বহুমুখী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতন মূলক শিক্ষার্থী সমাবেশ। ভাটেরা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ হাফিজ মো. তারেক আহমেদ তালুকদারের তালামীযে ইসলামিয়া কুলাউড়া উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন মুজিবুর রহমান সভাপতি, সাইদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আসক সিলেট জেলা কমিটি গঠন সভাপতি এড. সাইফুর রহমান খন্দকার রানা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম কুলাউড়ায় সমাজসেবক সেলিম আহমদের উদ্যোগে দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার কমলগঞ্জে আদমপুর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময়। গুড নেইবারস মৌলভীবাজার সিডিপি উদ্যোগে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত। কুলাউড়ায় ওভারসিজ এসোসিয়েশন অব ভূকশিমইলের ১৪৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন | ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়, অলি আহমদ পেলেন ৮৮

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
  • ১৩৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোট গণনা শেষে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩৪৯টি ভোটের মধ্যে ৩৪৩টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলো। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী নিয়ে সরাসরি ভোটের আয়োজন করা হয়। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের বিজয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নির্বাচনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

১৯৯০-এর দশকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর দলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দীর্ঘ সময় ধরে দলটির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের মধ্যে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনও রয়েছে। যদিও সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক প্রকৃতির, রাজনৈতিক সংকট বা সাংবিধানিক পরিবর্তনের সময়ে এ পদটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে। তাঁর সামনে এখন দলীয় রাজনীতির পরিচয়ের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির নিরপেক্ষতা, মর্যাদা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার বড় দায়িত্ব।

অভিনন্দন ও প্রত্যাশা

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সফলতা কামনা করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা, আইনের শাসন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। দলীয় রাজনীতির নেতৃত্ব থেকে এবার তাঁকে রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে—যেখানে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই হবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিসচা কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগ কমলগঞ্জ বহুমুখী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতন মূলক শিক্ষার্থী সমাবেশ।

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন | ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়, অলি আহমদ পেলেন ৮৮

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

Update Time : ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোট গণনা শেষে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩৪৯টি ভোটের মধ্যে ৩৪৩টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলো। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী নিয়ে সরাসরি ভোটের আয়োজন করা হয়। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের বিজয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নির্বাচনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

১৯৯০-এর দশকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর দলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দীর্ঘ সময় ধরে দলটির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের মধ্যে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনও রয়েছে। যদিও সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক প্রকৃতির, রাজনৈতিক সংকট বা সাংবিধানিক পরিবর্তনের সময়ে এ পদটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে। তাঁর সামনে এখন দলীয় রাজনীতির পরিচয়ের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির নিরপেক্ষতা, মর্যাদা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষার বড় দায়িত্ব।

অভিনন্দন ও প্রত্যাশা

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সফলতা কামনা করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা, আইনের শাসন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। দলীয় রাজনীতির নেতৃত্ব থেকে এবার তাঁকে রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে—যেখানে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই হবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।