
বর্তমান সময়ে আত্মহত্যা একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক নানা সংকটের কারণে অনেক মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন। কিন্তু আমি বলতে চাই বাস্তবতা হলো, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অকাল সমাপ্তি।
জীবন চলার পথে ব্যর্থতা, কষ্ট, দুঃখ ও প্রতিকূলতার ঝর আসবে – এটাই স্বাভাবিক। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে, একজন চাকরিপ্রার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরি নাও পেতে পারেন, ব্যবসায়ী লোকসানের মুখোমুখি হতে পারেন অথবা নিজের পরিবারের কাছে পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। কিন্তু এসব সমস্যাই জীবনের শেষ কথা নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও বদলে যায় এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।তাই বেশি করে ধৈর্য ধারন করতে হবে।নিজের প্রতি বিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে পরকালের জন্য চিন্তা করতে হবে। আমাদের গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায় যারা আত্মহত্যা করে তাদের লাশটি অনেকেই কবরস্থানে দাফন করতে বাধা আসে এমন কি আত্মহত্যা ব্যক্তির জানাযার নামাজে গ্রামের অনেক মানুষ এমন নিজের আত্মীয়রাও দেখতে আসে না। তাই আমি মনে করি আত্মহত্যা কোন সমাধানের পথ নয়।
আত্মহত্যার পেছনে অন্যতম কারণ হলো একাকীত্ব ও মানসিক চাপ। অনেকেই নিজের কষ্ট অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান না। ফলে হতাশা আরও গভীর হয়। তাই পরিবার, বন্ধু, বান্ধব, শিক্ষক, সহকর্মী ও সমাজের প্রত্যেকের উচিত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। অনেক সময় সহানুভূতির একটি বাক্যও একজন মানুষকে নতুন করে বাঁচার সাহস দিতে পারে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। জীবনের প্রতিটি সংকটেরই কোনো না কোনো সমাধান রয়েছে। তাই হতাশা নয়, আশাকে বেছে নিতে হবে। আত্মসমর্পণ নয়, সংগ্রামকে গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়,সমাধান হলো জীবনের প্রতি আস্থা রাখা এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়া।
হাসান আল মাহমুদ রাজু
( লেখক ও সাংবাদিক)

Reporter Name 

















