Dhaka , সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক সৈনিক’ পত্রিকার ভূমিকা -এম আতাউর রহমান পীর আত্মহত্যা নয়, জীবনের পক্ষেই হোক আমাদের অবস্থান কুলাউড়ায় ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে ঘর না ছাড়ার অভিযোগ, মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ মৌলভীবাজারে কিশোরীকে ধ/র্ষণের অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ আটক ২ পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন তালামীযের রাতব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ভাটেরায় তালামীযের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা কুলাউড়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী গ্রেপ্তার কুলাউড়া শহরের যানজট নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগ, নির্ধারিত স্থানে সিএনজি রাখার সিদ্ধান্ত তালামীযে ইসলামিয়া শ্রীপুর জালালীয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা শাখা’র আওতাধীন আলিম শাখা’র কাউন্সিল সম্পন্ন: সাইফুর রহমান সভাপতি, সালমান আহমদ সাধারণ সম্পাদক

আত্মহত্যা নয়, জীবনের পক্ষেই হোক আমাদের অবস্থান

  • Reporter Name
  • Update Time : ৩ ঘন্টা আগে
  • ৩৭ Time View

বর্তমান সময়ে আত্মহত্যা একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক নানা সংকটের কারণে অনেক মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন। কিন্তু  আমি বলতে চাই বাস্তবতা হলো, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অকাল সমাপ্তি।

জীবন চলার পথে ব্যর্থতা, কষ্ট, দুঃখ ও প্রতিকূলতার ঝর আসবে – এটাই স্বাভাবিক। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে, একজন চাকরিপ্রার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরি নাও পেতে পারেন, ব্যবসায়ী লোকসানের মুখোমুখি হতে পারেন অথবা নিজের পরিবারের কাছে পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। কিন্তু এসব সমস্যাই জীবনের শেষ কথা নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও বদলে যায় এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।তাই বেশি করে ধৈর্য ধারন করতে হবে।নিজের প্রতি বিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে পরকালের জন্য চিন্তা করতে হবে। আমাদের গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায় যারা আত্মহত্যা করে তাদের লাশটি অনেকেই কবরস্থানে দাফন করতে বাধা আসে এমন কি আত্মহত্যা ব্যক্তির জানাযার নামাজে গ্রামের অনেক মানুষ এমন নিজের আত্মীয়রাও দেখতে আসে না। তাই আমি মনে করি আত্মহত্যা কোন সমাধানের পথ নয়।

আত্মহত্যার পেছনে অন্যতম কারণ হলো একাকীত্ব ও মানসিক চাপ। অনেকেই নিজের কষ্ট অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান না। ফলে হতাশা আরও গভীর হয়। তাই পরিবার, বন্ধু, বান্ধব, শিক্ষক, সহকর্মী ও সমাজের প্রত্যেকের উচিত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। অনেক সময় সহানুভূতির একটি বাক্যও একজন মানুষকে নতুন করে বাঁচার সাহস দিতে পারে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। জীবনের প্রতিটি সংকটেরই কোনো না কোনো সমাধান রয়েছে। তাই হতাশা নয়, আশাকে বেছে নিতে হবে। আত্মসমর্পণ নয়, সংগ্রামকে গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়,সমাধান হলো জীবনের প্রতি আস্থা রাখা এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়া।

হাসান আল মাহমুদ রাজু
( লেখক ও সাংবাদিক)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ‘সাপ্তাহিক সৈনিক’ পত্রিকার ভূমিকা -এম আতাউর রহমান পীর

আত্মহত্যা নয়, জীবনের পক্ষেই হোক আমাদের অবস্থান

Update Time : ৩ ঘন্টা আগে

বর্তমান সময়ে আত্মহত্যা একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক নানা সংকটের কারণে অনেক মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছেন। কিন্তু  আমি বলতে চাই বাস্তবতা হলো, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অকাল সমাপ্তি।

জীবন চলার পথে ব্যর্থতা, কষ্ট, দুঃখ ও প্রতিকূলতার ঝর আসবে – এটাই স্বাভাবিক। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ব্যর্থ হতে পারে, একজন চাকরিপ্রার্থী কাঙ্ক্ষিত চাকরি নাও পেতে পারেন, ব্যবসায়ী লোকসানের মুখোমুখি হতে পারেন অথবা নিজের পরিবারের কাছে পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। কিন্তু এসব সমস্যাই জীবনের শেষ কথা নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও বদলে যায় এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।তাই বেশি করে ধৈর্য ধারন করতে হবে।নিজের প্রতি বিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে পরকালের জন্য চিন্তা করতে হবে। আমাদের গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায় যারা আত্মহত্যা করে তাদের লাশটি অনেকেই কবরস্থানে দাফন করতে বাধা আসে এমন কি আত্মহত্যা ব্যক্তির জানাযার নামাজে গ্রামের অনেক মানুষ এমন নিজের আত্মীয়রাও দেখতে আসে না। তাই আমি মনে করি আত্মহত্যা কোন সমাধানের পথ নয়।

আত্মহত্যার পেছনে অন্যতম কারণ হলো একাকীত্ব ও মানসিক চাপ। অনেকেই নিজের কষ্ট অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান না। ফলে হতাশা আরও গভীর হয়। তাই পরিবার, বন্ধু, বান্ধব, শিক্ষক, সহকর্মী ও সমাজের প্রত্যেকের উচিত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। অনেক সময় সহানুভূতির একটি বাক্যও একজন মানুষকে নতুন করে বাঁচার সাহস দিতে পারে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। জীবনের প্রতিটি সংকটেরই কোনো না কোনো সমাধান রয়েছে। তাই হতাশা নয়, আশাকে বেছে নিতে হবে। আত্মসমর্পণ নয়, সংগ্রামকে গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়,সমাধান হলো জীবনের প্রতি আস্থা রাখা এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়া।

হাসান আল মাহমুদ রাজু
( লেখক ও সাংবাদিক)