
কুলাউড়া প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ৩নং ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী এলাকার মানুষের মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেবেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি তারিখে নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ভাটেরা ইউনিয়নের হরিপুর, করইতলা, ভবানীপুর, দক্ষিণভাগ, কলিমাবাদ, তুলাপুর, শরিপপুর, কৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
‘মুরব্বিদের পরামর্শ নিয়েই এলাকার উন্নয়ন করব’
উঠান বৈঠকে আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী বলেন, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু একজন জনপ্রতিনিধির পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব নয়। এলাকার অভিজ্ঞ ও মুরব্বি ব্যক্তিদের পরামর্শ এবং সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি চেয়ারম্যান হলে আমার মুরব্বিদের নিয়ে পরামর্শ করে এলাকার উন্নয়ন করব। এলাকার মানুষের কী প্রয়োজন, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে—এসব বিষয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই।”
তাঁর বক্তব্যে তিনি ইউনিয়নের উন্নয়নকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না করে এলাকাভিত্তিক প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন।
‘আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট’
উঠান বৈঠকে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান ও জনপ্রতিনিধিত্বের উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলেন আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট। চেয়ারম্যান হওয়ার মাধ্যমে নিজের জন্য কিছু পাওয়ার চিন্তা নয়, বরং এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই আমি সামনে এসেছি।”
তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জনপ্রতিনিধিত্বকে ব্যক্তিগত লাভের পরিবর্তে মানুষের সেবা ও এলাকার উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন বলে জানান।
চেয়ারম্যানের বেতন-ভাতা অসহায়দের মাঝে দেওয়ার ঘোষণা উঠান বৈঠকে আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী আরও বলেন, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান হিসেবে যে বেতন-ভাতা পাবেন, তা নিজের জন্য ব্যয় না করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে চান।
তিনি বলেন, “আমি চেয়ারম্যান হলে ইউনিয়ন পরিষদের যে বেতন-ভাতা পাব, তা অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টন করে দেব।”
তাঁর এ বক্তব্যকে ঘিরে উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।
উঠান বৈঠকে বিভিন্ন এলাকার মানুষের উপস্থিতি
২৪ সেপ্টেম্বরের ওই উঠান বৈঠকে ভাটেরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন। হরিপুর, করইতলা, ভবানীপুর, দক্ষিণভাগ, কলিমাবাদ, তুলাপুর, শরিপপুর ও কৃষ্ণপুরসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক সেবা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ সময় উপস্থিতদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী তাঁদের মতামত ও পরামর্শ শোনেন। এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয়
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল জব্বার সিদ্দিকীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে মানুষের মতামত ও পরামর্শের বিষয়টি। তাঁর মতে, স্থানীয় সরকারের একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কথা শোনা এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করা।
তিনি বলেন, “জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না। আমি চাই এলাকার মানুষ আমাকে তাঁদের মতামত দেবেন, ভুল হলে ধরিয়ে দেবেন এবং ভালো কাজে সহযোগিতা করবেন।”
তিনি আরও বলেন, ভাটেরা ইউনিয়নের উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দল-মতের ঊর্ধ্বে মানুষের জন্য কাজ করার কথা
উঠান বৈঠকে তিনি দল-মত ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করতে চান তিনি।
আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী বলেন, “যে মানুষ আমাকে ভোট দেবেন, তিনি যেমন আমার মানুষ; যে মানুষ আমাকে ভোট দেবেন না, তিনিও আমার মানুষ। চেয়ারম্যান হলে ইউনিয়নের সব মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই।”
ভোটারদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রার্থী তাঁদের নিজ নিজ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুল জব্বার সিদ্দিকীও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন।
তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা তাঁদের নিজস্ব মতামত, পছন্দ ও বিবেচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
আব্দুল জব্বার সিদ্দিকীর বক্তব্যের মূলকথা—এলাকার মানুষের মতামত নিয়ে, মুরব্বিদের পরামর্শে এবং সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভাটেরা ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করা। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নিজের বেতন-ভাতা অসহায়দের মাঝে দেওয়ার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, সেটিও তাঁর বক্তব্যের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
এখন নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের মতামত ও সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে ভাটেরা ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে।

শেখ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী 



















