Dhaka , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী কুলাউড়ায় কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ভূকশিমইলে শশার কান্দি মানব সেবা সংগঠনকে কাতার প্রবাসী ফজলুল করিম ফজলুর ৬০টি টি-শার্ট উপহার কুলাউড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগে জঙ্গল এর একটি অংশ পরিষ্কার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে নজরুল শতবর্ষ উদযাপন আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তিতে কবি, সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষকদের মিলনমেলা কুলাউড়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কুলাউড়ার ঠিকাদার আব্দুল হাসিব বাচ্চুর ইন্তেকাল কমলগঞ্জে আদমপুর বাজারে নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে রোড ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও রেলী অনুষ্ঠিত।

এবার কঠোর নজরদারিতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল: চিকিৎসাসেবার মান ফেরাতে মন্ত্রণালয়ের তদারকি।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
  • ১৮০ Time View

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং জনসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করার অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তামান্না তাসনীমকে।

গত ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যার অধীনে মৌলভীবাজারের দায়িত্ব পান মিজ তামান্না তাসনীম।

এই উদ্যোগের ফলে মৌলভীবাজারের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আসবে।

তদারকি কর্মকর্তা যেসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন:
উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা: চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল হাজিরা এবং কর্মস্থলে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।

পরিবেশ ও অবকাঠামো: হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, ভৌত অবকাঠামোগত অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ।

জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, মাতৃত্ব ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি কার্যক্রমের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ।

প্রশাসনিক সমন্বয়: জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জানানো হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে অন্তত একটি বাধ্যতামূলক পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে। পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যা, পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ উল্লেখ করে পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজ তামান্না তাসনীম ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখায় যোগদানের আগে তিনি মাঠ প্রশাসনে গাজীপুরের কাপাসিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিভিন্ন উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাঠ প্রশাসনে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে মৌলভীবাজারের সরকারি হাসপাতালগুলোর দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের পথ সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী

এবার কঠোর নজরদারিতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল: চিকিৎসাসেবার মান ফেরাতে মন্ত্রণালয়ের তদারকি।

Update Time : ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং জনসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করার অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তামান্না তাসনীমকে।

গত ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যার অধীনে মৌলভীবাজারের দায়িত্ব পান মিজ তামান্না তাসনীম।

এই উদ্যোগের ফলে মৌলভীবাজারের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আসবে।

তদারকি কর্মকর্তা যেসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন:
উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা: চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল হাজিরা এবং কর্মস্থলে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।

পরিবেশ ও অবকাঠামো: হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, ভৌত অবকাঠামোগত অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ।

জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, মাতৃত্ব ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি কার্যক্রমের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ।

প্রশাসনিক সমন্বয়: জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জানানো হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতি মাসে অন্তত একটি বাধ্যতামূলক পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে। পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যা, পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ উল্লেখ করে পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজ তামান্না তাসনীম ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ শাখায় যোগদানের আগে তিনি মাঠ প্রশাসনে গাজীপুরের কাপাসিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিভিন্ন উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাঠ প্রশাসনে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে মৌলভীবাজারের সরকারি হাসপাতালগুলোর দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের পথ সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।