কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে ঘর না ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মরিয়ম বেগম (৫৫) কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বাড়ির মালিকের পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ভাড়াটিয়া ও মালিকপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির ও তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তাদের মালিকানাধীন বাড়ির পাশের একটি ঘরে প্রবাসী আলী আনফর শরীফের স্ত্রী রোমানা আক্তার (৩৮) দুই ছেলেকে নিয়ে গত ৫-৬ বছর ধরে বসবাস করছেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় একাধিকবার তাদের ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে গত ১০ আগস্ট সকালে মরিয়ম বেগমের মালিকানাধীন ফিসারিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যান রোমানা আক্তারের ছেলে ওমর আলী। এ সময় মরিয়ম বেগমের ছেলে জাবেদ হোসাইন মুন্না তাকে মাছ ধরতে নিষেধ করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওমর আলী ও তার আত্মীয়-স্বজনরা মুন্নাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিন রাতে ফিসারি দেখাশোনা করে ফেরার পথে ওমর আলী ও তার আত্মীয় মারজানের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুন্নার ওপর পুনরায় হামলা করা হয়। এতে মুন্না মাথায় গুরুতর জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাকে কুলাউড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর থেকে মরিয়ম বেগম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় গত ১১ আগস্ট কুলাউড়া থানায় রোমানা আক্তার, মাছুম আহমদ, মারজান আহমদ ও হারিছ আলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মরিয়ম বেগম।
মরিয়ম বেগমের স্বামী আব্দুল কাদির জানান, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হারিছ আলী (৫০) গংদের সঙ্গে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ নম্বর আমল আদালতে জিআর ৫৩/২১ (কুলাউড়া) মামলা চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রোমানা আক্তার ও মাছুম আহমদ বলেন, তারা ভাড়াটিয়া নন; মৌরসী সূত্রে ওই জায়গার মালিক তারা। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে, এর বাইরে আর কোনো ঘটনা নেই বলেও তারা দাবি করেন।
কুলাউড়া থানার এএসআই তোফায়েল আহমদ বলেন, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Reporter Name 
















