Dhaka , মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত। বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে সাংসদ শওকতুল ইসলাম কে বিশাল সংবর্ধনা কুলাউড়ায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইউএনও’র অভিযান, ৮ মামলায় জরিমানা পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা বার্তা। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কুলাউড়ার ওসিসহ ৩ পুলিশ সদস্যকে ডিআইজি পুরস্কার কুলাউড়ায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ ভাটেরা বাজার বণিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক ও শপথ অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট: ৩৮১ যানবাহন আটক, ২৬৭ মামলা ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বাংলা এডিশনের সাংবাদিক জিলানী এর উপরে হামলার প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন মরহুম আলহাজ্ব সামছুল ইসলাম চৌধুরীর ঈসালে সওয়াব উপলক্ষে বিশাল মেজবানি অনুষ্ঠিত।

মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
  • ২৪১ Time View

মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন

মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন

 

মাগুরার সেই নিষ্পাপ শিশুটি, যার জীবন এখন হাসপাতালের বিছানায় ঝুলে আছে এক সুতোর ওপর, অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যে বয়সে তার পুতুল নিয়ে খেলার কথা, সে এখন হাসপাতালের শীতল বিছানায় নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে, শ্বাস নেওয়ার জন্য লড়াই করছে। তার ছোট্ট শরীর এখন অক্সিজেন মাস্কের উপর নির্ভরশীল, তার প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন মৃত্যুর সাথে এক কঠিন যুদ্ধ।

 

আজ শিশুটির বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার শরীরে ধরা পড়েছে Pneumothorax (RT), ARDS, এবং Diffuse Cerebral Edema— তিনটি প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতা।

 

Pneumothorax (RT):

 

ফুসফুসের প্লুরাতে বাতাস প্রবেশ করায় ফুসফুস সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে বুকের একপাশ ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অক্সিজেনের অভাবে তীব্র শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। কল্পনা করুন, বুকের বাম দিকে কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করছে, ফুসফুস কাজ করছে না, ব্যথায় বুক ফেটে যাচ্ছে, শ্বাস নেওয়া দুঃসহ হয়ে উঠছে। শিশুটিকে এখন এই যন্ত্রণাই সহ্য করতে হচ্ছে।

 

ARDS (Acute Respiratory Distress Syndrome):

 

ফুসফুসে পানি জমে গেছে, ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এটি এমন এক অবস্থা, যেন কেউ পানির নিচে ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু ওপরে উঠতে পারছে না, প্রতিটি নিঃশ্বাসের জন্য সে আকুল হয়ে আছে। শিশুটিও ঠিক তেমনই শ্বাস নিতে পারছে না, ফুসফুস যেন প্রতিনিয়ত অক্সিজেনের জন্য কাঁদছে।

 

Diffuse Cerebral Edema:

 

মস্তিষ্কের টিস্যুগুলোতে অতিরিক্ত পানি জমে মস্তিষ্ক ফুলে গেছে। এতে করে ভয়ংকর মাথাব্যথা ও খিঁচুনি শুরু হয়েছে। ভাবুন, মাথার ভেতর কিছু একটা ফেটে যাচ্ছে, যন্ত্রণায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। শিশুটির জন্য এই যন্ত্রণা আরও ভয়াবহ, কারণ সে বোঝার আগেই বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে।

 

এইমুহূর্তে শিশুটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে তাকে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস চালানো হচ্ছে, মূত্রথলিতে স্টোমা ব্যাগ লাগানো হয়েছে, এমনকি খাবার দেওয়ার ব্যাপারেও চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না।

 

চারবার Cardiac Arrest, লাইফ সাপোর্টে শিশুটি

 

শিশুটি আজ চারবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি) আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবারই সিপিআর (CPR) দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু তার রক্তচাপ ভয়ংকরভাবে কমে গেছে— মাত্র ৬০/৪০। এমনকি তার রক্তে লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখতে ডায়ালাইসিসও করা হচ্ছে।

 

শিশুটি এখন সম্পূর্ণ লাইফ সাপোর্টে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু তারা বারবার বলছেন— তার অবস্থা ভয়াবহ। অথচ অপরাধী নির্ভার!

 

এই নিষ্পাপ শিশুটি হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, অথচ তার নির্যাতনকারী আয়েশ করে তিনবেলা খাচ্ছে, বিশ্রাম নিচ্ছে, কোনো শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে নেই। সমাজের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা হৃদয় ভেঙে দেয়। আমরা কি এই শিশুটির জন্য কিছু করতে পারি না?

 

দেশবাসীর কাছে দোয়ার আবেদন

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন, তবে চূড়ান্ত লড়াই এখন সময়ের হাতে। এই ছোট্ট শিশুটির বেঁচে থাকার জন্য এখন একমাত্র ভরসা— সৃষ্টিকর্তার রহমত এবং আমাদের সকলের দোয়া।

 

আসুন, আমরা সবাই একসাথে এই অবুঝ শিশুটির সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি। আমাদের দোয়া ও ভালোবাসাই হতে পারে তার নতুন জীবনের আশার আলো।

Tag :
About Author Information

নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত।

মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন

Update Time : ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন

 

মাগুরার সেই নিষ্পাপ শিশুটি, যার জীবন এখন হাসপাতালের বিছানায় ঝুলে আছে এক সুতোর ওপর, অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যে বয়সে তার পুতুল নিয়ে খেলার কথা, সে এখন হাসপাতালের শীতল বিছানায় নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে, শ্বাস নেওয়ার জন্য লড়াই করছে। তার ছোট্ট শরীর এখন অক্সিজেন মাস্কের উপর নির্ভরশীল, তার প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন মৃত্যুর সাথে এক কঠিন যুদ্ধ।

 

আজ শিশুটির বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার শরীরে ধরা পড়েছে Pneumothorax (RT), ARDS, এবং Diffuse Cerebral Edema— তিনটি প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতা।

 

Pneumothorax (RT):

 

ফুসফুসের প্লুরাতে বাতাস প্রবেশ করায় ফুসফুস সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে বুকের একপাশ ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অক্সিজেনের অভাবে তীব্র শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। কল্পনা করুন, বুকের বাম দিকে কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করছে, ফুসফুস কাজ করছে না, ব্যথায় বুক ফেটে যাচ্ছে, শ্বাস নেওয়া দুঃসহ হয়ে উঠছে। শিশুটিকে এখন এই যন্ত্রণাই সহ্য করতে হচ্ছে।

 

ARDS (Acute Respiratory Distress Syndrome):

 

ফুসফুসে পানি জমে গেছে, ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এটি এমন এক অবস্থা, যেন কেউ পানির নিচে ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু ওপরে উঠতে পারছে না, প্রতিটি নিঃশ্বাসের জন্য সে আকুল হয়ে আছে। শিশুটিও ঠিক তেমনই শ্বাস নিতে পারছে না, ফুসফুস যেন প্রতিনিয়ত অক্সিজেনের জন্য কাঁদছে।

 

Diffuse Cerebral Edema:

 

মস্তিষ্কের টিস্যুগুলোতে অতিরিক্ত পানি জমে মস্তিষ্ক ফুলে গেছে। এতে করে ভয়ংকর মাথাব্যথা ও খিঁচুনি শুরু হয়েছে। ভাবুন, মাথার ভেতর কিছু একটা ফেটে যাচ্ছে, যন্ত্রণায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। শিশুটির জন্য এই যন্ত্রণা আরও ভয়াবহ, কারণ সে বোঝার আগেই বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে।

 

এইমুহূর্তে শিশুটির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে তাকে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস চালানো হচ্ছে, মূত্রথলিতে স্টোমা ব্যাগ লাগানো হয়েছে, এমনকি খাবার দেওয়ার ব্যাপারেও চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না।

 

চারবার Cardiac Arrest, লাইফ সাপোর্টে শিশুটি

 

শিশুটি আজ চারবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি) আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবারই সিপিআর (CPR) দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু তার রক্তচাপ ভয়ংকরভাবে কমে গেছে— মাত্র ৬০/৪০। এমনকি তার রক্তে লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখতে ডায়ালাইসিসও করা হচ্ছে।

 

শিশুটি এখন সম্পূর্ণ লাইফ সাপোর্টে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু তারা বারবার বলছেন— তার অবস্থা ভয়াবহ। অথচ অপরাধী নির্ভার!

 

এই নিষ্পাপ শিশুটি হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, অথচ তার নির্যাতনকারী আয়েশ করে তিনবেলা খাচ্ছে, বিশ্রাম নিচ্ছে, কোনো শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে নেই। সমাজের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা হৃদয় ভেঙে দেয়। আমরা কি এই শিশুটির জন্য কিছু করতে পারি না?

 

দেশবাসীর কাছে দোয়ার আবেদন

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন, তবে চূড়ান্ত লড়াই এখন সময়ের হাতে। এই ছোট্ট শিশুটির বেঁচে থাকার জন্য এখন একমাত্র ভরসা— সৃষ্টিকর্তার রহমত এবং আমাদের সকলের দোয়া।

 

আসুন, আমরা সবাই একসাথে এই অবুঝ শিশুটির সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করি। আমাদের দোয়া ও ভালোবাসাই হতে পারে তার নতুন জীবনের আশার আলো।