
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা রেলওয়ে স্টেশনে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির অভিযোগের পর স্টেশনের আইপিএস রুমে থাকা ব্যাটারিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের আইপিএস রুম থেকে ব্যাটারিগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সিগন্যাল এসআই ও ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার জিয়াউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্টেশনের ব্যাটারি স্ট্যান্ডের হিসাব অনুযায়ী সেখানে মোট ৮৪টি ব্যাটারি থাকার কথা। কর্তৃপক্ষের দাবি, এর মধ্যে ১০টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের নিয়ে যাওয়া ব্যাটারির সংখ্যা ৬১টি বলে জানা গেছে। সে হিসাবে আরও ১৩টি ব্যাটারির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, আইপিএস রুমের গ্রীলের দুটি তালা পুরোপুরি ভাঙা নয়। এছাড়া ব্যাটারি রাখার কক্ষের দরজাটিও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। কীভাবে রুমে প্রবেশ করে ব্যাটারি সরানো হয়েছে—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ভাটেরা স্টেশন ইনচার্জ মো. জিকির ইসলাম বলেন, “এগুলো এঙ্গেল দিয়ে কেজ করে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেছে।”
অন্যদিকে, ব্যাটারি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আইপিএসের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও খুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চোখে পড়ে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলওয়ে সিগন্যাল এসআই ও ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার জিয়াউল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে এখানে কথা বলব না। আমার জিনিস আমি নিচ্ছি, এখানে সমস্যা কী?”
তবে মোট ৮৪টি ব্যাটারির মধ্যে ১০টি চুরি যাওয়ার দাবি, ৬১টি কর্তৃপক্ষের সরিয়ে নেওয়া এবং অবশিষ্ট ১৩টির হিসাব না মেলার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চুরির অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা কী, কতগুলো ব্যাটারি ও সরঞ্জাম খোয়া গেছে এবং অবশিষ্ট ব্যাটারির হিসাব কোথায়—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

Reporter Name 










