Dhaka , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি ছানু সম্পাদক হারিছ সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল খান দলীয় সমর্থন পেলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন আকমল হোসেন তালুকদার কুলাউড়ায় ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার তমদ্দুন মজলিসশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত। শামীম আহমদ এর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা ভাটেরা ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে প্রবাসী শামীম আহমদকে সংবর্ধনা মৌলভীবাজারে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত। সিলেট প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিক বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত কুলাউড়া বাদে ভুকশিমইল-শশারকান্দি যুব কমিটির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী রাজনকে সংবর্ধনা কুলাউড়ায় প্রবাসী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
পিলার দেবে বেরিয়ে এসেছে রড : ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ১০ গ্রামের মানুষ ও স্কুল শিক্ষার্থীরা

কুলাউড়ায় ফানাই নদীর ওপর দেবে যাওয়া ব্রিজ এখন ‘মরণফাঁদ’

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৫৬ Time View

রেজাউল ইসলাম শাফি:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউতগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ফানাই নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত এই ব্রিজটির মাঝখানের পিলার দেবে গিয়ে বর্তমানে এটি এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই ভাঙা ব্রিজ দিয়েই পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ।
**সরেজমিন চিত্র:** সরেজমিনে দেখা যায়, ভবানীপুর গ্রামের কাজল মিয়ার বাড়ির পাশে অবস্থিত এই ব্রিজটির মাঝখানের অংশটি নদীগর্ভে দেবে আছে। রেলিংয়ের কংক্রিট ধসে গিয়ে রডগুলো বিপজ্জনকভাবে বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে টানা বৃষ্টিতে নদীর পানির স্তর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির প্রবল চাপে দেবে যাওয়া অংশটি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো কাঠামোটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
**ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:** স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২১ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড যখন নদী পুনঃখনন করে, তখন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রিজের মাঝখানের পিলারটি দেবে যায় এবং মূল কাঠামোতে বড় ফাটল দেখা দেয়। এলাকাবাসীর দাবি, “আমাদের কষ্টের সীমা নেই। অথচ এই সেতুটিই আমাদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা।”

**বিপাকে শিক্ষার্থীরা:** সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা সাঁতার জানে না। প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে এই ভাঙা ব্রিজ পাড়ি দিয়ে তাদের স্কুলে যেতে হয়। পানির উচ্চতা বাড়লে তাদের আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
**যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা:** এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন ভবানীপুর, ভাটুৎগ্রাম, মৈশাজুড়ী, ঢুলিপাড়া, শ্রীরামপুর, নর্তন, পালগ্রাম, তিলাসিজুরাসহ পার্শ্ববর্তী অসংখ্য গ্রামের মানুষ এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল যাতায়াত করে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষ এই মৃত্যুকূপ পাড়ি দিচ্ছে।
**দ্রুত পদক্ষেপের দাবি:** অব্যাহত এই মরণঝুঁকি থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। কোনো বড় প্রাণহানি ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি ছানু সম্পাদক হারিছ সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল খান

পিলার দেবে বেরিয়ে এসেছে রড : ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ১০ গ্রামের মানুষ ও স্কুল শিক্ষার্থীরা

কুলাউড়ায় ফানাই নদীর ওপর দেবে যাওয়া ব্রিজ এখন ‘মরণফাঁদ’

Update Time : ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রেজাউল ইসলাম শাফি:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউতগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ফানাই নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত এই ব্রিজটির মাঝখানের পিলার দেবে গিয়ে বর্তমানে এটি এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই ভাঙা ব্রিজ দিয়েই পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ।
**সরেজমিন চিত্র:** সরেজমিনে দেখা যায়, ভবানীপুর গ্রামের কাজল মিয়ার বাড়ির পাশে অবস্থিত এই ব্রিজটির মাঝখানের অংশটি নদীগর্ভে দেবে আছে। রেলিংয়ের কংক্রিট ধসে গিয়ে রডগুলো বিপজ্জনকভাবে বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে টানা বৃষ্টিতে নদীর পানির স্তর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির প্রবল চাপে দেবে যাওয়া অংশটি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো কাঠামোটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
**ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:** স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২১ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড যখন নদী পুনঃখনন করে, তখন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রিজের মাঝখানের পিলারটি দেবে যায় এবং মূল কাঠামোতে বড় ফাটল দেখা দেয়। এলাকাবাসীর দাবি, “আমাদের কষ্টের সীমা নেই। অথচ এই সেতুটিই আমাদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা।”

**বিপাকে শিক্ষার্থীরা:** সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা সাঁতার জানে না। প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে এই ভাঙা ব্রিজ পাড়ি দিয়ে তাদের স্কুলে যেতে হয়। পানির উচ্চতা বাড়লে তাদের আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
**যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা:** এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন ভবানীপুর, ভাটুৎগ্রাম, মৈশাজুড়ী, ঢুলিপাড়া, শ্রীরামপুর, নর্তন, পালগ্রাম, তিলাসিজুরাসহ পার্শ্ববর্তী অসংখ্য গ্রামের মানুষ এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল যাতায়াত করে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষ এই মৃত্যুকূপ পাড়ি দিচ্ছে।
**দ্রুত পদক্ষেপের দাবি:** অব্যাহত এই মরণঝুঁকি থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। কোনো বড় প্রাণহানি ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।