Dhaka , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী কুলাউড়ায় কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। ভূকশিমইলে শশার কান্দি মানব সেবা সংগঠনকে কাতার প্রবাসী ফজলুল করিম ফজলুর ৬০টি টি-শার্ট উপহার কুলাউড়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগে জঙ্গল এর একটি অংশ পরিষ্কার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে নজরুল শতবর্ষ উদযাপন আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তিতে কবি, সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষকদের মিলনমেলা কুলাউড়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কুলাউড়ার ঠিকাদার আব্দুল হাসিব বাচ্চুর ইন্তেকাল কমলগঞ্জে আদমপুর বাজারে নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে রোড ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত। মৌলভীবাজারে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও রেলী অনুষ্ঠিত।

বিদ্যুৎহীন ভাটেরায় প্রবাসী পরিবারে উদ্বেগ: সাব-অফিসের দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৭৪ Time View

স্টাফ রিপোর্টার:

সারা দেশে যখন উন্নয়নের জোয়ার, তখন সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর চরম অব্যবস্থাপনায় অন্ধকারে নিমজ্জিত মৌলভীবাজারের ভাটেরা ইউনিয়ন। গতকাল থেকে চলা টানা প্রায় ৪৮ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। এই সংকট নিরসনে ভাটেরায় একটি স্থায়ী ‘সাব-অফিস’ স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা: ভাটেরা ইউনিয়ন প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকার অধিকাংশ মানুষের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছেন না। অনেক প্রবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বাড়িতে যোগাযোগ করতে না পেরে তারা গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। জরুরি প্রয়োজনেও একে অপরের সাথে কথা বলতে না পারায় এক ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

​কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অসহযোগিতা: এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝড়বৃষ্টি থামার দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কোনো লক্ষণ নেই। অনেক স্থানে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করছেন না, অথবা নম্বরটি দীর্ঘক্ষণ ব্যস্ত পাওয়া যাচ্ছে। বিপদের সময় গ্রাহকসেবার এমন বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সাব-অফিসের যৌক্তিক দাবি: ভাটেরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ইউনিয়নের জনগুরুত্ব বিবেচনায় এখানে পল্লী বিদ্যুতের একটি ‘সাব-অফিস’ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সামান্য একটি ফিউজ বা বেরেল পড়ে গেলেও মেরামতের জন্য ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে টেকনিশিয়ান আসার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। এতে যাতায়াতের পেছনেই দীর্ঘ সময় নষ্ট হয় এবং ভোগান্তি বাড়ে।

​স্থানীয়দের বক্তব্য: এলাকাবাসী জানান, “ভাটেরায় একটি সাব-অফিস থাকলে স্থানীয় টেকনিশিয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে ছোটখাটো ত্রুটি মেরামত করতে পারতেন। ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে লোক আসার অপেক্ষায় আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হতো না।”
​দ্রুত সমাধানের দাবি: দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভাটেরায় পল্লী বিদ্যুতের স্থায়ী অভিযোগ কেন্দ্র বা সাব-অফিস স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ গ্রাহকরা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভুকশিমইল ফ্রেন্ডস কমিটির উদ্যোগে প্রাথমিক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২৯৪ শিক্ষার্থী

বিদ্যুৎহীন ভাটেরায় প্রবাসী পরিবারে উদ্বেগ: সাব-অফিসের দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী

Update Time : ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

সারা দেশে যখন উন্নয়নের জোয়ার, তখন সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর চরম অব্যবস্থাপনায় অন্ধকারে নিমজ্জিত মৌলভীবাজারের ভাটেরা ইউনিয়ন। গতকাল থেকে চলা টানা প্রায় ৪৮ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। এই সংকট নিরসনে ভাটেরায় একটি স্থায়ী ‘সাব-অফিস’ স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা: ভাটেরা ইউনিয়ন প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকার অধিকাংশ মানুষের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছেন না। অনেক প্রবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বাড়িতে যোগাযোগ করতে না পেরে তারা গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। জরুরি প্রয়োজনেও একে অপরের সাথে কথা বলতে না পারায় এক ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

​কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অসহযোগিতা: এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝড়বৃষ্টি থামার দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কোনো লক্ষণ নেই। অনেক স্থানে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করছেন না, অথবা নম্বরটি দীর্ঘক্ষণ ব্যস্ত পাওয়া যাচ্ছে। বিপদের সময় গ্রাহকসেবার এমন বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সাব-অফিসের যৌক্তিক দাবি: ভাটেরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ইউনিয়নের জনগুরুত্ব বিবেচনায় এখানে পল্লী বিদ্যুতের একটি ‘সাব-অফিস’ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সামান্য একটি ফিউজ বা বেরেল পড়ে গেলেও মেরামতের জন্য ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে টেকনিশিয়ান আসার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। এতে যাতায়াতের পেছনেই দীর্ঘ সময় নষ্ট হয় এবং ভোগান্তি বাড়ে।

​স্থানীয়দের বক্তব্য: এলাকাবাসী জানান, “ভাটেরায় একটি সাব-অফিস থাকলে স্থানীয় টেকনিশিয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে ছোটখাটো ত্রুটি মেরামত করতে পারতেন। ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে লোক আসার অপেক্ষায় আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হতো না।”
​দ্রুত সমাধানের দাবি: দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভাটেরায় পল্লী বিদ্যুতের স্থায়ী অভিযোগ কেন্দ্র বা সাব-অফিস স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ গ্রাহকরা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।