
প্রতিবেদন: শেখ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী:
মৌলভীবাজার জেলার ভাটেরা ও ভুকশিমইল ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক বালিধারা (বালিদাড়া)–বেরকুড়ী সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটি এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আজও তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কাজের জন্য আনা একটি ভারী রোলার দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মাটি ভরাটের প্রস্তুতির কথা বলে পুরোনো ইটের সলিং তুলে নেওয়া হলেও এরপর রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কের অবস্থা আগের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সড়কটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নিজ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এছাড়া সাবেক সচিব ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার মোফাজ্জল করিমের বাড়িতে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়কও এটি। দেশের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির এলাকার এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। পথচারীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি উন্নয়ন কাজই শেষ না করা হয়, তবে কেন পুরোনো ইটের সলিং তুলে রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক করা হলো? বছরের পর বছর একটি রোলার ফেলে রেখে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার দায়ভার কে নেবে?

এই সড়কটি ভাটেরা ও ভুকশিমইল ইউনিয়নের বেরকুড়ী, খামাউরা, শশারকান্দি ও শাহামীর এলাকাসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র প্রধান ভরসা। হাকালুকি হাওরসংলগ্ন কৃষকদের উৎপাদিত ধান ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য এই পথ ব্যবহার করে। জরুরি রোগী, অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা অন্য কোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে হাসপাতালে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও এই সড়কই একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওরের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে সড়কের দুই পাশ ভেঙে যাচ্ছে। ফলে রাস্তা দিন দিন আরও সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কেন উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে সড়ক সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করে হাকালুকি হাওরের পানির চাপ সহনীয়, উঁচু ও টেকসই মানের পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলজিইডির (LGED) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই অবহেলার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।

শেখ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী 













