Dhaka , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে রাজনগরে বন্যার্তদের পাশে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ: ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প কমলগঞ্জে শাহিদা পারভীন ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০জন সফল বাবাকে সংবর্ধনা শাহজান’স হেলথকেয়ার ট্রেইনিং এন্ড সার্ভিস’-এর সৌজন্যে ও অর্থায়নে প্রায় তিন’শ জন রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা ও মেডিসিন প্রদান কমলগঞ্জে নিসচা’র উদ্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন কুলাউড়া পৌরসভার ৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। কাউয়াদিঘি হাওরের দক্ষিণ প্রান্তের হাইওয়েতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করলো হাওর রক্ষা আন্দোলন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভাটেরায় নতুনভাবে ‘মেসার্স আলি ফিলিং স্টেশন’ এর শুভ উদ্বোধন। সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে অ্যাওয়ার্ড অর্জনে -হারিছ আলী কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হ’ত্যা’র ১ বছর: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার ওএলাকাবাসী

আবারো সাভারে চলন্ত বাসে ছিনতাই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৪৯৮ Time View

আবারো সাভারে চলন্ত বাসে ছিনতাই

 

 

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল। দুপুরবেলা। রাজধানীর খুব কাছেই—সাভারের ব্যস্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। চারপাশে চলছিল দৈনন্দিন কোলাহল, ব্যস্ততা। অথচ সেই ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল একের পর এক চরম ভয়াবহ ঘটনা—একই দিনে, একই মহাসড়কে দুটি বাসে ছিনতাই।

 

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বেলা ১২টার দিকে। যাত্রীবেশে কিছু ছিনতাইকারী উঠে পড়েন সাভার পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে। মুহূর্তেই তারা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলেন। আতঙ্কিত যাত্রীদের কাছ থেকে কেড়ে নেন নগদ টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র।

 

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে আরেক ভয়াল হামলা। এবার রাজধানী পরিবহন নামের বাসে। সিএন্ডবি এলাকায় তিন ছিনতাইকারী হঠাৎ বাসে উঠে যাত্রীদের ঘিরে ধরেন। হাতে ধারালো অস্ত্র। চোখেমুখে হিংস্রতা। কয়েক মিনিটেই তারা যাত্রীদের কাছ থেকে লুটে নেয় সঞ্চিত স্বর্ণ, টাকা-পয়সা।

 

দিনের আলো থাকতে এভাবে চলন্ত বাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা কেবল ভয়ঙ্করই নয়, এটি এক ভয়াবহ বার্তা—আমরা কেউ নিরাপদ নই।

 

যাত্রীরা বলছেন,

“বাসে ওঠা এখন মানেই ভয় নিয়ে যাত্রা। এই মহাসড়ক তো যেন ডাকাতের রাজত্ব হয়ে গেছে!”

 

খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি গণমাধ্যমের একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও ওসি জুয়েল মিয়া ফোন রিসিভ করেননি।
এই নিস্পৃহতা, এই নিরবতা—পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতাকেই যেন নগ্নভাবে প্রকাশ করে।

 

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই এলাকাতেই বেশ কয়েকবার চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো? কীভাবে প্রতিরোধ হলো? প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

 

দিনে-দুপুরে, জনবহুল এলাকায়, পুলিশের চোখের সামনে এমন ঘটনা—এ কি তাহলে নতুন কোনো অপরাধচক্রের উদয়?

নাকি এই অঞ্চল এখন অজানা কোনো গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে?

 

কোথায় পুলিশি টহল? কোথায় রুটিন চেকিং?

 

🗣️ যাত্রীদের আহ্বান—”আমরা নিরাপত্তা চাই, ভয় নয়”
একজন যাত্রী কাঁপা গলায় বলেন,

“জীবিকার জন্য বাসে উঠি, অথচ ফিরতে পারব কি না তা জানি না। এটা কি আমাদের রাজধানীর পাশের সড়ক? নাকি কোনো ভয়াবহ ক্রাইম জোন?”

 

💔 এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে—শুধু রাস্তায় নামলেই চলবে না, এখন বেঁচে ফিরতে পারাটাও একটা যুদ্ধ।
আসামিদের গ্রেপ্তার, কঠোর শাস্তি এবং নিয়মিত টহল ছাড়া এই ভয়াবহতা থামবে না।

 

🔴 নইলে ‘সড়ক’ নামটা শুধু যাত্রার প্রতীক নয়, হয়ে উঠবে মৃত্যু ও আতঙ্কের আরেক নাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মৌলভীবাজারে রাজনগরে বন্যার্তদের পাশে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ: ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প

আবারো সাভারে চলন্ত বাসে ছিনতাই

Update Time : ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫

 

 

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল। দুপুরবেলা। রাজধানীর খুব কাছেই—সাভারের ব্যস্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। চারপাশে চলছিল দৈনন্দিন কোলাহল, ব্যস্ততা। অথচ সেই ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল একের পর এক চরম ভয়াবহ ঘটনা—একই দিনে, একই মহাসড়কে দুটি বাসে ছিনতাই।

 

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বেলা ১২টার দিকে। যাত্রীবেশে কিছু ছিনতাইকারী উঠে পড়েন সাভার পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে। মুহূর্তেই তারা দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলেন। আতঙ্কিত যাত্রীদের কাছ থেকে কেড়ে নেন নগদ টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র।

 

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে আরেক ভয়াল হামলা। এবার রাজধানী পরিবহন নামের বাসে। সিএন্ডবি এলাকায় তিন ছিনতাইকারী হঠাৎ বাসে উঠে যাত্রীদের ঘিরে ধরেন। হাতে ধারালো অস্ত্র। চোখেমুখে হিংস্রতা। কয়েক মিনিটেই তারা যাত্রীদের কাছ থেকে লুটে নেয় সঞ্চিত স্বর্ণ, টাকা-পয়সা।

 

দিনের আলো থাকতে এভাবে চলন্ত বাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা কেবল ভয়ঙ্করই নয়, এটি এক ভয়াবহ বার্তা—আমরা কেউ নিরাপদ নই।

 

যাত্রীরা বলছেন,

“বাসে ওঠা এখন মানেই ভয় নিয়ে যাত্রা। এই মহাসড়ক তো যেন ডাকাতের রাজত্ব হয়ে গেছে!”

 

খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি গণমাধ্যমের একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও ওসি জুয়েল মিয়া ফোন রিসিভ করেননি।
এই নিস্পৃহতা, এই নিরবতা—পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতাকেই যেন নগ্নভাবে প্রকাশ করে।

 

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই এলাকাতেই বেশ কয়েকবার চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো? কীভাবে প্রতিরোধ হলো? প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

 

দিনে-দুপুরে, জনবহুল এলাকায়, পুলিশের চোখের সামনে এমন ঘটনা—এ কি তাহলে নতুন কোনো অপরাধচক্রের উদয়?

নাকি এই অঞ্চল এখন অজানা কোনো গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে?

 

কোথায় পুলিশি টহল? কোথায় রুটিন চেকিং?

 

🗣️ যাত্রীদের আহ্বান—”আমরা নিরাপত্তা চাই, ভয় নয়”
একজন যাত্রী কাঁপা গলায় বলেন,

“জীবিকার জন্য বাসে উঠি, অথচ ফিরতে পারব কি না তা জানি না। এটা কি আমাদের রাজধানীর পাশের সড়ক? নাকি কোনো ভয়াবহ ক্রাইম জোন?”

 

💔 এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে—শুধু রাস্তায় নামলেই চলবে না, এখন বেঁচে ফিরতে পারাটাও একটা যুদ্ধ।
আসামিদের গ্রেপ্তার, কঠোর শাস্তি এবং নিয়মিত টহল ছাড়া এই ভয়াবহতা থামবে না।

 

🔴 নইলে ‘সড়ক’ নামটা শুধু যাত্রার প্রতীক নয়, হয়ে উঠবে মৃত্যু ও আতঙ্কের আরেক নাম।