Dhaka , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে রাজনগরে বন্যার্তদের পাশে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ: ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প কমলগঞ্জে শাহিদা পারভীন ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০জন সফল বাবাকে সংবর্ধনা শাহজান’স হেলথকেয়ার ট্রেইনিং এন্ড সার্ভিস’-এর সৌজন্যে ও অর্থায়নে প্রায় তিন’শ জন রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা ও মেডিসিন প্রদান কমলগঞ্জে নিসচা’র উদ্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন কুলাউড়া পৌরসভার ৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। কাউয়াদিঘি হাওরের দক্ষিণ প্রান্তের হাইওয়েতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করলো হাওর রক্ষা আন্দোলন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভাটেরায় নতুনভাবে ‘মেসার্স আলি ফিলিং স্টেশন’ এর শুভ উদ্বোধন। সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে অ্যাওয়ার্ড অর্জনে -হারিছ আলী কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রী আনজুম হ’ত্যা’র ১ বছর: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার ওএলাকাবাসী

মারা গেছে আছিয়া

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
  • ২৮৬ Time View

মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন

হাসপাতালের ঠান্ডা বিছানাটাই হয়ে উঠেছিল তার শেষ আশ্রয়। সপ্তাহখানেক ধরে জীবন-মৃত্যুর এক অসম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল ছোট্ট মেয়েটি। শরীরের প্রতিটি কোষ বেঁচে থাকার জন্য লড়ছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। মাত্র ৮ বছরের অবুঝ শিশুটি হেরে গেলো নির্মমতার কাছে, হেরে গেলো মানুষের অসভ্যতার কাছে।

 

আজ (১৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিরতরে থেমে গেল তার নিঃশ্বাস। মেয়েটিকে বাঁচাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো, দেশবাসীর হাজারো প্রার্থনা পৌঁছালো না সৃষ্টিকর্তার দরবারে।

 

গতকাল চারবার হার্ট অ্যাটাক করেছিল তার। আজও হলো দুবার। প্রথমবারের পরও সে লড়ল, দ্বিতীয়বার যখন হার্ট অ্যাটাক হলো, তখন ৩০ মিনিট ধরে ডাক্তাররা চেষ্টা চালালেন, শেষমেষ ফিরে এলো তার হৃদস্পন্দন! কিন্তু তারপর?

 

তার ব্রেন ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল। শরীরে কোনো সাড়া নেই, রক্তচাপ দ্রুত কমতে থাকল। শেষবারের মতো যখন তার হৃদস্পন্দন থেমে গেলো, তখন ডাক্তাররা জানালেন—আর কিছু করার নেই। নিষ্পাপ এই শিশুটির শরীরের মতোই হয়তো আকাশের গায়েও কালো মেঘ জমে উঠেছিল।

 

এই মেয়েটির তো এখন পুতুল নিয়ে খেলার কথা ছিল! স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, মা-বাবার আঁচলে মুখ লুকিয়ে দুষ্টুমি করার কথা ছিল। অথচ, তাকে নৃশংসভাবে ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফেলা হলো!

 

গত ৬ মার্চ, মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সে। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে ঘাতকেরা তাকে ধর্ষণ করে। তার নিষ্পাপ দেহটা তখনই হয়তো মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর শুরু হয় আরেকটি যুদ্ধ—চিকিৎসকদের যুদ্ধ, পরিবারের যুদ্ধ, দেশবাসীর যুদ্ধ। কিন্তু আমরা হেরে গেলাম।

 

তার মা-বাবা হয়তো এখনো ভাবছেন—”আমাদের ছোট্ট মেয়েটা কেমন ছিল! কেমন করে হাসতো! কেমন করে কাঁদতো! শেষবারের মতো আরেকবার যদি জড়িয়ে ধরা যেত…”

 

কিন্তু, সেটা আর কখনোই হবে না।

 

এই সমাজ কি তার জন্য কিছু করবে? ধর্ষকেরা জেলে আছে, হয়তো বিচারের নামে বছরের পর বছর মামলা চলবে। হয়তো একসময় সবাই ভুলে যাবে। কিন্তু, সেই শিশুটির মা-বাবা ভুলবে না! তার শূন্য বিছানাটা, ছোট্ট জামা-কাপড়গুলো, বই-খাতা—এসব কিছুই মনে করিয়ে দেবে এক নির্মম পরিণতির কথা।

 

এই সমাজ কি আরেকটি ‘নির্ভয়া’র জন্ম দেবে? নাকি আমরা এবার অন্তত সত্যিকারের ন্যায়বিচার দেখব?

 

আজ আকাশটাও হয়তো কাঁদছে। কাঁদছে, কারণ এই পৃথিবী আরেকবার তার নিষ্পাপ এক শিশুকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলো।

 

চিরবিদায়, ‘নির্ভয়া’। তোমার জন্য এই পৃথিবী নিরাপদ ছিল না। আমরা তোমাকে বাঁচাতে পারিনি, আমাদের ক্ষমা করো!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মৌলভীবাজারে রাজনগরে বন্যার্তদের পাশে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ: ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প

মারা গেছে আছিয়া

Update Time : ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

হাসপাতালের ঠান্ডা বিছানাটাই হয়ে উঠেছিল তার শেষ আশ্রয়। সপ্তাহখানেক ধরে জীবন-মৃত্যুর এক অসম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল ছোট্ট মেয়েটি। শরীরের প্রতিটি কোষ বেঁচে থাকার জন্য লড়ছিল, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। মাত্র ৮ বছরের অবুঝ শিশুটি হেরে গেলো নির্মমতার কাছে, হেরে গেলো মানুষের অসভ্যতার কাছে।

 

আজ (১৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিরতরে থেমে গেল তার নিঃশ্বাস। মেয়েটিকে বাঁচাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো, দেশবাসীর হাজারো প্রার্থনা পৌঁছালো না সৃষ্টিকর্তার দরবারে।

 

গতকাল চারবার হার্ট অ্যাটাক করেছিল তার। আজও হলো দুবার। প্রথমবারের পরও সে লড়ল, দ্বিতীয়বার যখন হার্ট অ্যাটাক হলো, তখন ৩০ মিনিট ধরে ডাক্তাররা চেষ্টা চালালেন, শেষমেষ ফিরে এলো তার হৃদস্পন্দন! কিন্তু তারপর?

 

তার ব্রেন ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল। শরীরে কোনো সাড়া নেই, রক্তচাপ দ্রুত কমতে থাকল। শেষবারের মতো যখন তার হৃদস্পন্দন থেমে গেলো, তখন ডাক্তাররা জানালেন—আর কিছু করার নেই। নিষ্পাপ এই শিশুটির শরীরের মতোই হয়তো আকাশের গায়েও কালো মেঘ জমে উঠেছিল।

 

এই মেয়েটির তো এখন পুতুল নিয়ে খেলার কথা ছিল! স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, মা-বাবার আঁচলে মুখ লুকিয়ে দুষ্টুমি করার কথা ছিল। অথচ, তাকে নৃশংসভাবে ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফেলা হলো!

 

গত ৬ মার্চ, মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সে। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে ঘাতকেরা তাকে ধর্ষণ করে। তার নিষ্পাপ দেহটা তখনই হয়তো মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর শুরু হয় আরেকটি যুদ্ধ—চিকিৎসকদের যুদ্ধ, পরিবারের যুদ্ধ, দেশবাসীর যুদ্ধ। কিন্তু আমরা হেরে গেলাম।

 

তার মা-বাবা হয়তো এখনো ভাবছেন—”আমাদের ছোট্ট মেয়েটা কেমন ছিল! কেমন করে হাসতো! কেমন করে কাঁদতো! শেষবারের মতো আরেকবার যদি জড়িয়ে ধরা যেত…”

 

কিন্তু, সেটা আর কখনোই হবে না।

 

এই সমাজ কি তার জন্য কিছু করবে? ধর্ষকেরা জেলে আছে, হয়তো বিচারের নামে বছরের পর বছর মামলা চলবে। হয়তো একসময় সবাই ভুলে যাবে। কিন্তু, সেই শিশুটির মা-বাবা ভুলবে না! তার শূন্য বিছানাটা, ছোট্ট জামা-কাপড়গুলো, বই-খাতা—এসব কিছুই মনে করিয়ে দেবে এক নির্মম পরিণতির কথা।

 

এই সমাজ কি আরেকটি ‘নির্ভয়া’র জন্ম দেবে? নাকি আমরা এবার অন্তত সত্যিকারের ন্যায়বিচার দেখব?

 

আজ আকাশটাও হয়তো কাঁদছে। কাঁদছে, কারণ এই পৃথিবী আরেকবার তার নিষ্পাপ এক শিশুকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলো।

 

চিরবিদায়, ‘নির্ভয়া’। তোমার জন্য এই পৃথিবী নিরাপদ ছিল না। আমরা তোমাকে বাঁচাতে পারিনি, আমাদের ক্ষমা করো!