
কুলাউড়া প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ৩ নং ভাটেরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভাটেরা বাজার-কলিমাবাদ রাস্তার মুখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের খুঁটি গেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং বৈধ রেল ক্রসিংয়ের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণ। আজ শুক্রবার (৫ জুন) এই অবরোধের কারণে সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ভাটেরা স্টেশন এলাকায় প্রায় ১০-১৫ মিনিট আটকে থাকে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটেরা বাজার থেকে পশ্চিমমুখী কলিমাবাদ ও ইসলাম নগর হয়ে ভাটেরা রাবার বাগান পর্যন্ত বিস্তৃত এই ডাবল ইট সলিং (এইচবিবি) রাস্তাটি দিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখানে কোনো অনুমোদিত রেল ক্রসিং বা স্থায়ী গেটম্যান ছিল না।
গতকাল বৃহস্পতিবার এই অরক্ষিত ক্রসিং পারাপারের সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। অলৌকিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও, দুর্ঘটনা এড়াতে আজ সকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আকস্মিকভাবে ওই রাস্তার ঠিক মুখে লোহার খুঁটি পুঁতে দেয়। এতে কলিমাবাদ, ইসলাম নগরসহ রাবার বাগান এলাকার সাথে ভাটেরা বাজারের সরাসরি যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
একটি ৬০-৭০ বছরের পুরোনো এবং সলিং করা পাকা রাস্তা হুট করে এভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ দুপুর ১২.০০ ঘটিকায়, এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ও ভুক্তভোগী সাধারণ জনতা জড়ো হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১০-১৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়।
বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তাটি আমাদের বাপ-দাদার আমলের। ভাটেরা বাজার, কলিমাবাদ, ইসলাম নগর ও রাবার বাগান এলাকার হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীবহনকারী যানবাহন প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। দুর্ঘটনা এড়াতে রেলওয়ে প্রশাসনের উচিত এখানে একটি বৈধ রেল গেট ও স্থায়ী গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া, রাস্তা বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। রাস্তা বন্ধ থাকলে আমরা পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বো।”
খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রেলওয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে স্থানীয়রা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে স্থানীয় এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই স্থানে বৈধ ক্রসিং ও গেটম্যানের ব্যবস্থা করে রাস্তাটি সচল করা না হলে তারা পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

Reporter Name 







