Dhaka , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেট বিআরটিএ-তে মোশাররফ-রফিকুল সিন্ডিকেট: দুর্নীতির মহাসাগরে দিশেহারা জনগণ গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকের বাড়ির রাস্তা বন্ধ: আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রভাবশালী চক্রের তাণ্ডব মৌলভীবাজারে ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রিসালাহ’র ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত সার্জন টিভির আয়োজনে প্রবাসী সমাজসেবক আব্দুল মতিন (মতু)–কে সংবর্ধনা, গুণীজনদের মিলনমেলায় মুখর সিলেট কুলাউড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার উদ্বোধন সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সৈয়দ ছালেক আহমেদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা সম্পন্ন ভাটেরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: পানির সংকটে মসজিদ ও হোটেল, নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজের মালামাল কুলাউড়া বরমচালে স্ত্রী আত্মহত্যা, স্বামী আটক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী আলাল আহমেদ কুলাউড়া উপজেলা তালামীযের ঈদ পুনর্মিলনী ও দায়িত্বশীল বৈঠক সম্পন্ন।

সিলেট বিআরটিএ-তে মোশাররফ-রফিকুল সিন্ডিকেট: দুর্নীতির মহাসাগরে দিশেহারা জনগণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১৩ ঘন্টা আগে
  • ১০ Time View

লাকি  আক্তার, জেলা প্রতিনিধি :

সিলেট বিআরটি অফিসের দুই কর্মকর্তার বি*রুদ্ধে ঘু*ষের অভিযোগ ও লার্নার বাতিল, ‎সিলেট বিআরটি যেন এক অনিয়মের মহোৎসবের কারখানা। অফিসটিতে গড়ে উঠেছে মোশারফ ও রফিকুল এর একটি বিশাল সিন্ডিকেট। দালালদের দৌরাত্ম্য আর অসাধু কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটে এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত। মোটরযান পরিদর্শক মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পরিবহন সেবা। ঘুষ ছাড়া এখানে ফাইল নরে না, সম্প্রতি বিআরটি এর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও লার্নার বাতিল, লাইন্সের পরীক্ষায় অনিয়ম এবং লার্নার কার্ড কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার বল্লা গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম নুরু (লার্নার নম্বর: ১০-১৮১৫৪৩২৪) গত ৮ মার্চ নির্ধারিত সময়ে ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। নুরুল ইসলাম ২০১৩ সাল থেকেই একজন দক্ষ ‘হেভি’ লাইসেন্সধারী চালক।
‎তার লার্নারে ‘ড্রাম ট্রাক’ উল্লেখ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে ওই ভারী যানবাহন দিয়েই পরীক্ষা দিতে বলেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লার্নারে ‘মোটর কার’ (ছোট গাড়ি) অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং সেই গাড়ি দিয়েই সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন তার লার্নার কার্ডটি কলম দিয়ে কেটে বাতিল করে দেন। লার্নার বাতিলের পর তিনি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের শরণাপন্ন হলে তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় তার লার্নারটি স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেন তিনি।

ভুক্তভোগী চালক আরও অভিযোগ করেন, একই দিনে অনেক অদক্ষ চালককে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।তিনি হলেন বিআরটিএ সিলেট বিভাগীয় অফিসের উচ্চমান সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি অবৈধভাবে কাজ করছেন সিলেট জেলা অফিসে। সিলেট অফিসে প্রতিদিন রোলে থাকে ৩শ থেকে ৩৫০ জন পরিক্ষার্থীর তালিকা। প্রতিজন পরিক্ষার্থীর
‎কাছ থেকে গড়ে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেন রফিকুল ইসলাম বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির মালিকানা পবির্তনের কাজটি করেন রেকর্ড কিপার আব্দুর রাজ্জাক। তার হয়ে কাজ করেন দালাল আমিনুর রহমান আমিন (তিনি আওয়ামী সেচ্চাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এখাতে প্রতিদিন এই আমিনের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হয় বলে জানান অনেকেই।

অনুসন্ধান মতে আরো জানা যায়, সিলেট বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতির শেকড় কতটুকু গভীরে, তার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে সরেজমিন গেলে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই এই অফিসটি অবস্থিত হলেও, সেখানে প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। বর্তমান মটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এই অনিয়ম আড়াল করতে সাংবাদিকদের জন্য চালু করা হয়েছে অভিনব এক ‘ঘুষ কোটা’। সাংবাদিক দমনে ‘কোটা ও মার্কার’ পদ্ধতি সিলেট বিআরটিএ-র ঘুষ ও দুর্নীতির খবর যাতে গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ১৫ জন সাংবাদিকের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। গত বছরের ১৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই পদ্ধতিতে সাংবাদিকদের ‘বড়’ ও ‘ছোট’ এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সিনিয়র সাংবাদিক প্রতিদিন দুটি ‘মার্কার ফাইলে’র সুবিধা। জুনিয়র সাংবাদিক প্রতিদিন একটি ‘মার্কার ফাইলে’র সুবিধা পান। বিনিময়ে সকল অপকর্মের সংবাদ ধামাচাপা দেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বুধবার এই ‘মার্কার’ বা চিহ্নিত ফাইলের বিপরীতে জমাকৃত ঘুষের টাকা সাংবাদিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম যোগদানের পর বিআরটিএ-তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুজনকে সাজা দিলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ডিসি নিজেই দালালদের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে চরম বিরক্ত হলেও রহস্যময় কোনো ‘অদৃশ্য শক্তির’ কারণে দালালরা এখনো অপ্রতিরোধ্য। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই দালালরা পালিয়ে যায়, আর মাঝেমধ্যে কেউ আটক হলেও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়।

‎মোশারফের ‘আলাদীনের চেরাগ’ দীর্ঘদিন সিলেট অফিসে কর্মরত থাকার সুবাদে মোশারফ হোসেন নিজেই গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ঘুষের নেটওয়ার্ক। মাত্র কয়েক মাসে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন। তার এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হলেন, মোজাম্মেল হোসেন ইমন, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোছা: রাবেয়া আক্তার ভূঁইয়া, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এই দুই কর্মচারীরা সরাসরি ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত এবং মোশারফের হয়ে সব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন। এই দুই কর্মচারী প্রায় ১১ বছর থেকে একই স্থানে বহাল রয়েছেন। সিলেট বিআরটিএ অফিস থেকে শুধু এই দুইজনের মাসিক কয়েক লক্ষ টাকা।

এর আগেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, ব্লাঙ্ক চেক এবং গ্রাহকদের ভয় দেখাতে রাখা ‘হকিস্টিক’ উদ্ধার করেছিল। জেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক ও জরিমানা করলেও মোশাররফ হোসেনের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি একচুলও কমেনি।‎জানা গেছে, মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেন বিআরটিএ-তে যোগদানের পর থেকেই নিজের একটি অনুগত দালাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের ১৫-২০ জন সদস্য পুরো অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, পার্মিট শাখায় দালাল রাজু। ফিটনেস শাখায় আলী,‎আমিনুর রহমান আমিন, কালা জাবেদ, শ্যামল দত্ত, আবুল কালাম, রেদোওয়ান, রানা বাবু, ফয়সল। অন্যান্য শাখায়, কার সিটির মিজান, আওয়ামী লীগ ক্যাডার ফয়ছলের ভাই মিজান, ফখরুল ও জনি, বিএনপি নেতা নজমুল ইসলাম। এই চক্রটি সাধারণ গ্রাহকদের জিম্মি করে রাখে এবং মোশারফের হয়ে যাবতীয় দরদাম চূড়ান্ত করে।

‎‎সাপ্তাহিক ‘ঘুষের হাট’ ও লেনদেনের গোপন আস্তানা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে জিন্দাবাজারের মুক্তিযোদ্ধা গলি এবং ডায়বেটিকস গলিতে এই ‘ঘুষের হাট’ বসে। ঘুষের টাকা সরাসরি অফিসে লেনদেন না করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বাইরে সংগ্রহ করা হয় মোশারফ ও রফিকুল ইসলাম। সকল ঘুষের টাকা আদায় করেন অফিসের কর্মচারী রাবেয়া আক্তার, মোয়াজ্জেম হোসেন ইমন এবং বিশ্বস্ত দালাল আব্দুল কালাম ও আমিনুর রহমান আমিন।

‎‎সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মোশারফ হোসেনের মাসিক বেতন স্কেল মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। অথচ তিনি সিলেট শহরে মাসিক ২৫ হাজার টাকায় বাসা ভাড়ার ফ্ল্যাটে রাজকীয় জীবন যাপন করেন। প্রতিমাসে ঘুষ বাণিজ্য থেকে তার মাসিক আয় প্রায় কয়েক লাখ টাকা। এই অবৈধ আয়ের অর্থ প্রতিদিন সন্ধ্যায় বহন করেন রফিকুল ইসলাম নামের বিআরটিএ-র এক তরুণ কর্মচারী। ড্রাইভিং লাইসেন্সে অডিনারী হলে ঘুষের পরিমান ৩ হাজার টাকা, আর্জেন্ট (এসপি) হলে ঘুনতে হয় ১০ হাজার টাকার বেশী। অবশ্য এটি লেনদেনের রেইট নির্ধারণ করেছেন মোশারফ ও রফিকুল ইসলাম। সরকারি ফি’র বাইরে ফিটনেস পরীক্ষায় প্রতি সিএনজি বাবদ ঘুষ রাখা হয় ২ হাজার টাকা, বড় গাড়ি ৩ হাজার আর ট্রাক সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

‎‎এ বিষয়ে মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোশারফ অফিস করেন না। তিনি পরিক্ষার পর বাসায় চলে যান। অফিসে থেমন একটা বসেন না। তবে মোশারফ হোসেনকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তাকেও ফোনে পাওয়া যায় নি,রফিকুল ইসলাম এর বক্তব্য নিতে গেলে ফোন দেওয়া হয় সেও ফোন রিসিভ করে নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিলেট বিআরটিএ-তে মোশাররফ-রফিকুল সিন্ডিকেট: দুর্নীতির মহাসাগরে দিশেহারা জনগণ

সিলেট বিআরটিএ-তে মোশাররফ-রফিকুল সিন্ডিকেট: দুর্নীতির মহাসাগরে দিশেহারা জনগণ

Update Time : ১৩ ঘন্টা আগে

লাকি  আক্তার, জেলা প্রতিনিধি :

সিলেট বিআরটি অফিসের দুই কর্মকর্তার বি*রুদ্ধে ঘু*ষের অভিযোগ ও লার্নার বাতিল, ‎সিলেট বিআরটি যেন এক অনিয়মের মহোৎসবের কারখানা। অফিসটিতে গড়ে উঠেছে মোশারফ ও রফিকুল এর একটি বিশাল সিন্ডিকেট। দালালদের দৌরাত্ম্য আর অসাধু কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটে এখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত। মোটরযান পরিদর্শক মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পরিবহন সেবা। ঘুষ ছাড়া এখানে ফাইল নরে না, সম্প্রতি বিআরটি এর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও লার্নার বাতিল, লাইন্সের পরীক্ষায় অনিয়ম এবং লার্নার কার্ড কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার বল্লা গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম নুরু (লার্নার নম্বর: ১০-১৮১৫৪৩২৪) গত ৮ মার্চ নির্ধারিত সময়ে ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। নুরুল ইসলাম ২০১৩ সাল থেকেই একজন দক্ষ ‘হেভি’ লাইসেন্সধারী চালক।
‎তার লার্নারে ‘ড্রাম ট্রাক’ উল্লেখ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে ওই ভারী যানবাহন দিয়েই পরীক্ষা দিতে বলেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লার্নারে ‘মোটর কার’ (ছোট গাড়ি) অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং সেই গাড়ি দিয়েই সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন তার লার্নার কার্ডটি কলম দিয়ে কেটে বাতিল করে দেন। লার্নার বাতিলের পর তিনি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের শরণাপন্ন হলে তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় তার লার্নারটি স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেন তিনি।

ভুক্তভোগী চালক আরও অভিযোগ করেন, একই দিনে অনেক অদক্ষ চালককে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।তিনি হলেন বিআরটিএ সিলেট বিভাগীয় অফিসের উচ্চমান সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি অবৈধভাবে কাজ করছেন সিলেট জেলা অফিসে। সিলেট অফিসে প্রতিদিন রোলে থাকে ৩শ থেকে ৩৫০ জন পরিক্ষার্থীর তালিকা। প্রতিজন পরিক্ষার্থীর
‎কাছ থেকে গড়ে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেন রফিকুল ইসলাম বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির মালিকানা পবির্তনের কাজটি করেন রেকর্ড কিপার আব্দুর রাজ্জাক। তার হয়ে কাজ করেন দালাল আমিনুর রহমান আমিন (তিনি আওয়ামী সেচ্চাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এখাতে প্রতিদিন এই আমিনের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হয় বলে জানান অনেকেই।

অনুসন্ধান মতে আরো জানা যায়, সিলেট বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতির শেকড় কতটুকু গভীরে, তার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে সরেজমিন গেলে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই এই অফিসটি অবস্থিত হলেও, সেখানে প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। বর্তমান মটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এই অনিয়ম আড়াল করতে সাংবাদিকদের জন্য চালু করা হয়েছে অভিনব এক ‘ঘুষ কোটা’। সাংবাদিক দমনে ‘কোটা ও মার্কার’ পদ্ধতি সিলেট বিআরটিএ-র ঘুষ ও দুর্নীতির খবর যাতে গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ১৫ জন সাংবাদিকের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। গত বছরের ১৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই পদ্ধতিতে সাংবাদিকদের ‘বড়’ ও ‘ছোট’ এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সিনিয়র সাংবাদিক প্রতিদিন দুটি ‘মার্কার ফাইলে’র সুবিধা। জুনিয়র সাংবাদিক প্রতিদিন একটি ‘মার্কার ফাইলে’র সুবিধা পান। বিনিময়ে সকল অপকর্মের সংবাদ ধামাচাপা দেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বুধবার এই ‘মার্কার’ বা চিহ্নিত ফাইলের বিপরীতে জমাকৃত ঘুষের টাকা সাংবাদিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম যোগদানের পর বিআরটিএ-তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুজনকে সাজা দিলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ডিসি নিজেই দালালদের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে চরম বিরক্ত হলেও রহস্যময় কোনো ‘অদৃশ্য শক্তির’ কারণে দালালরা এখনো অপ্রতিরোধ্য। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই দালালরা পালিয়ে যায়, আর মাঝেমধ্যে কেউ আটক হলেও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়।

‎মোশারফের ‘আলাদীনের চেরাগ’ দীর্ঘদিন সিলেট অফিসে কর্মরত থাকার সুবাদে মোশারফ হোসেন নিজেই গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ঘুষের নেটওয়ার্ক। মাত্র কয়েক মাসে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছেন। তার এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী হলেন, মোজাম্মেল হোসেন ইমন, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোছা: রাবেয়া আক্তার ভূঁইয়া, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এই দুই কর্মচারীরা সরাসরি ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত এবং মোশারফের হয়ে সব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন। এই দুই কর্মচারী প্রায় ১১ বছর থেকে একই স্থানে বহাল রয়েছেন। সিলেট বিআরটিএ অফিস থেকে শুধু এই দুইজনের মাসিক কয়েক লক্ষ টাকা।

এর আগেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা, ব্লাঙ্ক চেক এবং গ্রাহকদের ভয় দেখাতে রাখা ‘হকিস্টিক’ উদ্ধার করেছিল। জেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক ও জরিমানা করলেও মোশাররফ হোসেনের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি একচুলও কমেনি।‎জানা গেছে, মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেন বিআরটিএ-তে যোগদানের পর থেকেই নিজের একটি অনুগত দালাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের ১৫-২০ জন সদস্য পুরো অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, পার্মিট শাখায় দালাল রাজু। ফিটনেস শাখায় আলী,‎আমিনুর রহমান আমিন, কালা জাবেদ, শ্যামল দত্ত, আবুল কালাম, রেদোওয়ান, রানা বাবু, ফয়সল। অন্যান্য শাখায়, কার সিটির মিজান, আওয়ামী লীগ ক্যাডার ফয়ছলের ভাই মিজান, ফখরুল ও জনি, বিএনপি নেতা নজমুল ইসলাম। এই চক্রটি সাধারণ গ্রাহকদের জিম্মি করে রাখে এবং মোশারফের হয়ে যাবতীয় দরদাম চূড়ান্ত করে।

‎‎সাপ্তাহিক ‘ঘুষের হাট’ ও লেনদেনের গোপন আস্তানা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে জিন্দাবাজারের মুক্তিযোদ্ধা গলি এবং ডায়বেটিকস গলিতে এই ‘ঘুষের হাট’ বসে। ঘুষের টাকা সরাসরি অফিসে লেনদেন না করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বাইরে সংগ্রহ করা হয় মোশারফ ও রফিকুল ইসলাম। সকল ঘুষের টাকা আদায় করেন অফিসের কর্মচারী রাবেয়া আক্তার, মোয়াজ্জেম হোসেন ইমন এবং বিশ্বস্ত দালাল আব্দুল কালাম ও আমিনুর রহমান আমিন।

‎‎সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মোশারফ হোসেনের মাসিক বেতন স্কেল মাত্র ৩৮ হাজার টাকা। অথচ তিনি সিলেট শহরে মাসিক ২৫ হাজার টাকায় বাসা ভাড়ার ফ্ল্যাটে রাজকীয় জীবন যাপন করেন। প্রতিমাসে ঘুষ বাণিজ্য থেকে তার মাসিক আয় প্রায় কয়েক লাখ টাকা। এই অবৈধ আয়ের অর্থ প্রতিদিন সন্ধ্যায় বহন করেন রফিকুল ইসলাম নামের বিআরটিএ-র এক তরুণ কর্মচারী। ড্রাইভিং লাইসেন্সে অডিনারী হলে ঘুষের পরিমান ৩ হাজার টাকা, আর্জেন্ট (এসপি) হলে ঘুনতে হয় ১০ হাজার টাকার বেশী। অবশ্য এটি লেনদেনের রেইট নির্ধারণ করেছেন মোশারফ ও রফিকুল ইসলাম। সরকারি ফি’র বাইরে ফিটনেস পরীক্ষায় প্রতি সিএনজি বাবদ ঘুষ রাখা হয় ২ হাজার টাকা, বড় গাড়ি ৩ হাজার আর ট্রাক সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

‎‎এ বিষয়ে মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোশারফ অফিস করেন না। তিনি পরিক্ষার পর বাসায় চলে যান। অফিসে থেমন একটা বসেন না। তবে মোশারফ হোসেনকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তাকেও ফোনে পাওয়া যায় নি,রফিকুল ইসলাম এর বক্তব্য নিতে গেলে ফোন দেওয়া হয় সেও ফোন রিসিভ করে নি।