Dhaka , বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত। বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে সাংসদ শওকতুল ইসলাম কে বিশাল সংবর্ধনা কুলাউড়ায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইউএনও’র অভিযান, ৮ মামলায় জরিমানা পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা বার্তা। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কুলাউড়ার ওসিসহ ৩ পুলিশ সদস্যকে ডিআইজি পুরস্কার কুলাউড়ায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ ভাটেরা বাজার বণিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক ও শপথ অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট: ৩৮১ যানবাহন আটক, ২৬৭ মামলা ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বাংলা এডিশনের সাংবাদিক জিলানী এর উপরে হামলার প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন মরহুম আলহাজ্ব সামছুল ইসলাম চৌধুরীর ঈসালে সওয়াব উপলক্ষে বিশাল মেজবানি অনুষ্ঠিত।

ভাটেরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: পানির সংকটে মসজিদ ও হোটেল, নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজের মালামাল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া | ৫ এপ্রিল ২০২৬
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গতকাল রাত থেকে ভাটেরা স্টেশন বাজার ও ভাটেরা বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ:
বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজিং আইটেম বা পচনশীল পণ্যগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দোকানদাররা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা মন্দা, তার ওপর যদি নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকে তবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।”
পানির তীব্র সংকট:
বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে। মসজিদে অজুর পানি না থাকায় মুসল্লিরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এমনকি টয়লেট ও শৌচাগারগুলোতে পানির অভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্রাহকদের ক্ষোভ ও কর্মকর্তাদের ‘লোকবল’ অজুহাত:
সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল ঠিকই আদায় করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কিন্তু সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ফোন করা হলে তারা ‘লোকবল সংকট’ এর অজুহাত দেন। গ্রাহকদের প্রশ্ন— “বিল দেওয়ার সময় তো আমরা কোনো অজুহাত দেই না, তাহলে সেবা দেওয়ার সময় কেন বারবার মানুষ সংকটের কথা শুনতে হবে?”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের অবহেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য বৃষ্টি বা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাটেরা ও স্টেশন বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত।

ভাটেরায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: পানির সংকটে মসজিদ ও হোটেল, নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজের মালামাল

Update Time : ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুলাউড়া | ৫ এপ্রিল ২০২৬
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গতকাল রাত থেকে ভাটেরা স্টেশন বাজার ও ভাটেরা বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ:
বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজিং আইটেম বা পচনশীল পণ্যগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দোকানদাররা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা মন্দা, তার ওপর যদি নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকে তবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।”
পানির তীব্র সংকট:
বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে। মসজিদে অজুর পানি না থাকায় মুসল্লিরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এমনকি টয়লেট ও শৌচাগারগুলোতে পানির অভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্রাহকদের ক্ষোভ ও কর্মকর্তাদের ‘লোকবল’ অজুহাত:
সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল ঠিকই আদায় করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কিন্তু সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেই বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ফোন করা হলে তারা ‘লোকবল সংকট’ এর অজুহাত দেন। গ্রাহকদের প্রশ্ন— “বিল দেওয়ার সময় তো আমরা কোনো অজুহাত দেই না, তাহলে সেবা দেওয়ার সময় কেন বারবার মানুষ সংকটের কথা শুনতে হবে?”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের অবহেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য বৃষ্টি বা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাটেরা ও স্টেশন বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না করলে জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ।