Dhaka , বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা সভাপতি কুলাউড়া’র সম্রাট নজরুল ইসলাম সিদ্দিকী নিসচা কমলগঞ্জ শাখার পক্ষ থেকে (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) নবনির্বাচিত এমপি সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ শুভেচ্ছা বিনিময় গুড নেইবারস বাংলাদেশ মৌলভীবাজার সিডিপিতে সহযোগী বিদ্যালয় সমূহের অংশগ্রহণে বার্ষিক পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত গুড নেইবারস্ বাংলাদেশের উদ্দ্যোগে কমলগঞ্জে, বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত। ভৈরবে ফল কিনতে গিয়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী, ৫ দিন ধরে মেলেনি সন্ধান পবিত্র মাহে রমজান শুরু, আগামীকাল থেকে রোজা সিলেটের চার কৃতি সন্তান মন্ত্রিসভায় — আনন্দ ও প্রত্যাশায় মুখর পুরো বিভাগ

শাহজালালের স্মৃতিধন্য সিলেটের সময়-সাক্ষী নওয়াব আলী আমজদের ঐতিহাসিক ঘড়ি

এম. আতিকুর রহমান আখই।
হজরত শাহজালাল (রহঃ) এর সৃতিধন্য সিলেট কিন ব্রিজের পাশেই অবস্থিত ১৫১ বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যের সৃতি স্বারক, নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ি।

বিগত ১৫১ বছরে সিলেটে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা দুর্ঘটনার নিরব সাক্ষী এই ঘড়িকে নিয়ে এখন উত্তপ্ত সিলেট। সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পএিকার শিরোনাম হচ্ছে ঐতিহ্যঘাথা এই ঘড়ি। সম্প্রতি গত জুলাই বিপ্লবে জীবন দানকারী বীর সেনানিদের সৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্তের প্রতি কারো কোন দ্বিমত না থাকলেও নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ির সামনে সৃতি স্তম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে সিলেটের মানুষ। সকলের একই প্রশ্ন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের এতো পতিত জায়গা থাকতে ১৫১ বছরের ঐতিহ্য, আলী আমজদ এর ঘড়ির সম্মুখে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যেশ্যটা কি?


গণমানুষের নিন্দার ঝড় ও সিলেট বাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে আলী আমজদ এর ঘড়ি ঘরের সামনে নির্মিত সৃতিস্থম্বের কাজ প্রশাসন স্থগিত করলেও সন্তুষ্ট নয় সিলেটের মানুষ। তাদের দাবী একটাই আর তা হচ্ছে অবিলম্বে নির্মিতব্য সৃতিস্থম্ব এখান থেকে সরিয়ে অন্যএ স্থানান্তরিত করা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে সিলেট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই ঘড়ির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। যখন ঘড়ির অবাধ প্রচলন ছিল না, সেসময় অর্থাৎ ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার (উত্তর সুরমা) কীন ব্রিজের ডানপার্শ্বে সুরমা নদীর তীরে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আহমদ খান, তার ছেলে আলী আমজদের নামকরণে। লোহার খুঁটির উপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির স্থাপত্যশৈলীর ঘড়িঘরটি তখন থেকেই আলী আমজদের ঘড়িঘর নামে পরিচিতি লাভ করে।

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে এই প্রাচীন ঘড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। স্বাধীনতার পর সিলেট পৌরসভা ঘড়িটি মেরামতের মাধ্যমে সচল করলেও কিছুদিনের মধ্যেই ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে আলী আমজদের ঘড়ি মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়। এসময় ঘড়িটি চালু করার পর ঢাকার একটি কোম্পানীর কারিগররা ঘড়িটি চালু রাখার জন্য রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করে দেয়। পৌর চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঘড়ির কাঁটা ঘুরতো। কিন্তু দুই-চার বছর যেতে না যেতেই ঘড়ির কাঁটা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সিজান কোম্পানীর দ্বারা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘড়িটি পূনরায় চালু করা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ঘড়িটির কাঁটা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই ঘড়িটিকে পূণরায় মেরামত করলে তা আবার দৈনিক ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সচল রয়েছে।

এই ঘড়িকে কেন্দ্র করে একটি স্থানীয় প্রবাদ চালু ছিল এরকম:

“ চাঁদনী ঘাটের সিড়ি, আলী আমজদের ঘড়ি, জিতু মিয়ার বাড়ী, বঙ্কু বাবুর দাড়ি। ”

ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়, নওয়াব আলী আমজদ এর উত্তরসুরী সাবেক সংসদ সদস্য জনাব নওয়াব আলী আব্বাস খান ও জনাব নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু জানান,ঐতিহাসিক এই ঘড়িটি আমাদের পুর্বপুরুষেরা দিলেও এখন এটা আর কোন পরিবারের বা গোষ্ঠীর নয়,এই ঘড়ি বৃহত্তর সিলেট বাসীর আবেগ,অনুভূতি ও ঐতিহ্যের জায়গা।তাই, সিলেট বাসীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার দ্রত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
লেখক
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শাহজালালের স্মৃতিধন্য সিলেটের সময়-সাক্ষী নওয়াব আলী আমজদের ঐতিহাসিক ঘড়ি

Update Time : ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫

এম. আতিকুর রহমান আখই।
হজরত শাহজালাল (রহঃ) এর সৃতিধন্য সিলেট কিন ব্রিজের পাশেই অবস্থিত ১৫১ বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যের সৃতি স্বারক, নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ি।

বিগত ১৫১ বছরে সিলেটে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা দুর্ঘটনার নিরব সাক্ষী এই ঘড়িকে নিয়ে এখন উত্তপ্ত সিলেট। সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পএিকার শিরোনাম হচ্ছে ঐতিহ্যঘাথা এই ঘড়ি। সম্প্রতি গত জুলাই বিপ্লবে জীবন দানকারী বীর সেনানিদের সৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্তের প্রতি কারো কোন দ্বিমত না থাকলেও নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ির সামনে সৃতি স্তম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে সিলেটের মানুষ। সকলের একই প্রশ্ন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের এতো পতিত জায়গা থাকতে ১৫১ বছরের ঐতিহ্য, আলী আমজদ এর ঘড়ির সম্মুখে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যেশ্যটা কি?


গণমানুষের নিন্দার ঝড় ও সিলেট বাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে আলী আমজদ এর ঘড়ি ঘরের সামনে নির্মিত সৃতিস্থম্বের কাজ প্রশাসন স্থগিত করলেও সন্তুষ্ট নয় সিলেটের মানুষ। তাদের দাবী একটাই আর তা হচ্ছে অবিলম্বে নির্মিতব্য সৃতিস্থম্ব এখান থেকে সরিয়ে অন্যএ স্থানান্তরিত করা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে সিলেট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই ঘড়ির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। যখন ঘড়ির অবাধ প্রচলন ছিল না, সেসময় অর্থাৎ ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার (উত্তর সুরমা) কীন ব্রিজের ডানপার্শ্বে সুরমা নদীর তীরে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আহমদ খান, তার ছেলে আলী আমজদের নামকরণে। লোহার খুঁটির উপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির স্থাপত্যশৈলীর ঘড়িঘরটি তখন থেকেই আলী আমজদের ঘড়িঘর নামে পরিচিতি লাভ করে।

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে এই প্রাচীন ঘড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। স্বাধীনতার পর সিলেট পৌরসভা ঘড়িটি মেরামতের মাধ্যমে সচল করলেও কিছুদিনের মধ্যেই ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে আলী আমজদের ঘড়ি মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়। এসময় ঘড়িটি চালু করার পর ঢাকার একটি কোম্পানীর কারিগররা ঘড়িটি চালু রাখার জন্য রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করে দেয়। পৌর চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঘড়ির কাঁটা ঘুরতো। কিন্তু দুই-চার বছর যেতে না যেতেই ঘড়ির কাঁটা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সিজান কোম্পানীর দ্বারা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘড়িটি পূনরায় চালু করা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ঘড়িটির কাঁটা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই ঘড়িটিকে পূণরায় মেরামত করলে তা আবার দৈনিক ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সচল রয়েছে।

এই ঘড়িকে কেন্দ্র করে একটি স্থানীয় প্রবাদ চালু ছিল এরকম:

“ চাঁদনী ঘাটের সিড়ি, আলী আমজদের ঘড়ি, জিতু মিয়ার বাড়ী, বঙ্কু বাবুর দাড়ি। ”

ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়, নওয়াব আলী আমজদ এর উত্তরসুরী সাবেক সংসদ সদস্য জনাব নওয়াব আলী আব্বাস খান ও জনাব নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু জানান,ঐতিহাসিক এই ঘড়িটি আমাদের পুর্বপুরুষেরা দিলেও এখন এটা আর কোন পরিবারের বা গোষ্ঠীর নয়,এই ঘড়ি বৃহত্তর সিলেট বাসীর আবেগ,অনুভূতি ও ঐতিহ্যের জায়গা।তাই, সিলেট বাসীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার দ্রত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
লেখক
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক।