Dhaka , বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত। বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে সাংসদ শওকতুল ইসলাম কে বিশাল সংবর্ধনা কুলাউড়ায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইউএনও’র অভিযান, ৮ মামলায় জরিমানা পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা বার্তা। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কুলাউড়ার ওসিসহ ৩ পুলিশ সদস্যকে ডিআইজি পুরস্কার কুলাউড়ায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ ভাটেরা বাজার বণিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক ও শপথ অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট: ৩৮১ যানবাহন আটক, ২৬৭ মামলা ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বাংলা এডিশনের সাংবাদিক জিলানী এর উপরে হামলার প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন মরহুম আলহাজ্ব সামছুল ইসলাম চৌধুরীর ঈসালে সওয়াব উপলক্ষে বিশাল মেজবানি অনুষ্ঠিত।

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে মসজিদের ইমাম আটক!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
  • ১৩৪ Time View

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে মসজিদের ইমাম আটক!

বরিশালের গৌরনদীতে গভীর রাতে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লেন এক মসজিদের ইমাম ও এক প্রবাসীর স্ত্রী। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় তাদের।

 

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে। অভিযুক্তরা হলেন মো. মাইনুল ইসলাম পলাশ ফকির (২৬) এবং সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ঝুমুর খানম (২৫)।

 

পলাশ ফকির গৌরনদী উপজেলার ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি এবং বদরপুর মুসুল্লিবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম। তার বাড়ি উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম শোলক গ্রামে। তিনি শাহ আলম ফকিরের ছেলে।

 

গভীর রাতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে গৌরনদী থানার এসআই জুলেল হাওলাদারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

গৌরনদী থানার ওসি মো. ইউনূস মিয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়রা কেউ বাদী না হওয়ায় পুলিশ নিজে বাদী হয়ে পেনাল কোড ২৯০ ধারায় মামলা করেছে। এতে ‘অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ করে জনমনে বিরক্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

একজন মসজিদের ইমাম, যিনি ধর্মীয় বিধান শেখানোর দায়িত্বে ছিলেন, সেই তিনিই এমন কাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেন! আরেকদিকে, স্বামী বিদেশে শ্রম দিচ্ছেন, সংসার চালাচ্ছেন, অথচ স্ত্রী এমন অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন!

 

এই ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তি চরিত্রের অধঃপতন নয়, বরং সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়ের এক নগ্ন চিত্র। এমন ঘটনাগুলো বারবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ধর্মীয় লেবাস পরলেই কেউ ভালো মানুষ হয় না, চরিত্রটাই আসল পরিচয়।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই ধরনের অপরাধের কী কঠোর বিচার হবে? নাকি আমরা কিছুদিন পরই আবার এমন ঘটনা দেখতে পাব?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত।

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে মসজিদের ইমাম আটক!

Update Time : ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

বরিশালের গৌরনদীতে গভীর রাতে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লেন এক মসজিদের ইমাম ও এক প্রবাসীর স্ত্রী। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় তাদের।

 

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে। অভিযুক্তরা হলেন মো. মাইনুল ইসলাম পলাশ ফকির (২৬) এবং সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ঝুমুর খানম (২৫)।

 

পলাশ ফকির গৌরনদী উপজেলার ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি এবং বদরপুর মুসুল্লিবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম। তার বাড়ি উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম শোলক গ্রামে। তিনি শাহ আলম ফকিরের ছেলে।

 

গভীর রাতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে গৌরনদী থানার এসআই জুলেল হাওলাদারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

গৌরনদী থানার ওসি মো. ইউনূস মিয়া জানিয়েছেন, স্থানীয়রা কেউ বাদী না হওয়ায় পুলিশ নিজে বাদী হয়ে পেনাল কোড ২৯০ ধারায় মামলা করেছে। এতে ‘অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ করে জনমনে বিরক্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

একজন মসজিদের ইমাম, যিনি ধর্মীয় বিধান শেখানোর দায়িত্বে ছিলেন, সেই তিনিই এমন কাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেন! আরেকদিকে, স্বামী বিদেশে শ্রম দিচ্ছেন, সংসার চালাচ্ছেন, অথচ স্ত্রী এমন অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন!

 

এই ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তি চরিত্রের অধঃপতন নয়, বরং সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়ের এক নগ্ন চিত্র। এমন ঘটনাগুলো বারবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ধর্মীয় লেবাস পরলেই কেউ ভালো মানুষ হয় না, চরিত্রটাই আসল পরিচয়।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই ধরনের অপরাধের কী কঠোর বিচার হবে? নাকি আমরা কিছুদিন পরই আবার এমন ঘটনা দেখতে পাব?