Dhaka , শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কমলগঞ্জে কোয়াব কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট- এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত। কমলগঞ্জে ইউএনও সাথে কমলগঞ্জ সামাজিক সংগঠন ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কদের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রস্তুত বালাই হাওর: আল্লামা ফুলতলী ছাহেব রাহিমাহুল্লাহ’র ১৮ তম বার্ষিক ইসালে সাওয়াব মাহফিল ২০২৬ ইং মৌলভীবাজারে ২২ জানুয়ারি তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা মৌলভীবাজার-২ সংসদীয় আসনে মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদের জনপ্রিয়তা শীর্ষে, অনলাইন জরিপে নেতৃত্বের অবস্থান কমলগঞ্জে হোসাইন কিডস প্লানেট এন্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুল উদ্বোধনী ও বই বিতরণ অনুষ্ঠিত। ভাইজন২৪ গ্রুপের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কমলগঞ্জে নবাগত ইউএনও সাথে নিসচা কমলগঞ্জ শাখার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ মালিক ভাটেরা স্টেশন বাজার বণিক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি আকমল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হৃদয় আহমদ সদর নির্বাচিত

চাঁদপুরে মামা-মামির হাতে কিশোরী রোজিনার অমানবিক নির্যাতন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
  • ৪৬৭ Time View

চাঁদপুরে মামা-মামির হাতে কিশোরী রোজিনার অমানবিক নির্যাতন

রোজিনার দুর্দশার সূচনা হয় যখন তার মামা রুবেল মোল্লা ও মামি রোকেয়া বেগম তাকে গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। ঢাকায় বিউটি পার্লারে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হলেও, বাস্তবে তাকে বন্দি করা হয় চাঁদপুর শহরের মাদ্রাসা সড়কের বাসায়। সেখানে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।

 

প্রতিদিনের শাস্তির তালিকায় ছিল গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, শিলপাটার আঘাত, কাপড় কাঁচার গুড়ো খাওয়ানো! সামান্য ভুল করলেই বেধড়ক মারধর। ফোন ব্যবহার কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল তার জন্য।

 

বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছিল রোজিনার। তবুও, সুযোগের অপেক্ষায় ছিল সে। বৃহস্পতিবার, ইফতারের আগে বাসার সবাই ব্যস্ত থাকায়, সাহস করে দরজা খুলে পালিয়ে যায় রোজিনা। দৌড়ে বেরিয়ে এসে সড়কের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা যখন তার দিকে এগিয়ে যায়, তখন সে নির্যাতনের কথা জানায়।

 

স্থানীয় কয়েকজন তরুণ বিষয়টি বুঝতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। দ্রুত চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর, পুলিশ রোজিনাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে চরম অমানবিক নির্যাতনের চিত্র। রোজিনার বাবা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মামা রুবেল মোল্লা ও মামি রোকেয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রাতেই অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশ।

 

শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব হাসপাতালে যান রোজিনার পাশে দাঁড়াতে। তিনি রোজিনার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন, তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন এবং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।

 

আটকের পর আদালতে হাজির করা হয় রুবেল মোল্লা ও রোকেয়া বেগমকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামি রোকেয়া নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শাসন করার জন্য মাঝেমধ্যে সামান্য মারধর করতাম। এত বড় কিছু হয়নি।’ তবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চিহ্ন রোজিনার দেহে স্পষ্ট ছিল। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

 

চিকিৎসকের মতে, রোজিনার শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট, তবে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু মানসিক আঘাত তাকে আজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। সমাজের অসংবেদনশীলতার বলি হয়েছিল সে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আলো তার জন্য এসেছে।

 

এ ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি সমাজের চিত্র। এমন নৃশংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন। রোজিনার মতো আর কেউ যেন এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার না হয়, সেটাই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কমলগঞ্জে কোয়াব কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট- এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত।

চাঁদপুরে মামা-মামির হাতে কিশোরী রোজিনার অমানবিক নির্যাতন

Update Time : ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫

রোজিনার দুর্দশার সূচনা হয় যখন তার মামা রুবেল মোল্লা ও মামি রোকেয়া বেগম তাকে গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। ঢাকায় বিউটি পার্লারে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হলেও, বাস্তবে তাকে বন্দি করা হয় চাঁদপুর শহরের মাদ্রাসা সড়কের বাসায়। সেখানে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।

 

প্রতিদিনের শাস্তির তালিকায় ছিল গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, শিলপাটার আঘাত, কাপড় কাঁচার গুড়ো খাওয়ানো! সামান্য ভুল করলেই বেধড়ক মারধর। ফোন ব্যবহার কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল তার জন্য।

 

বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছিল রোজিনার। তবুও, সুযোগের অপেক্ষায় ছিল সে। বৃহস্পতিবার, ইফতারের আগে বাসার সবাই ব্যস্ত থাকায়, সাহস করে দরজা খুলে পালিয়ে যায় রোজিনা। দৌড়ে বেরিয়ে এসে সড়কের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা যখন তার দিকে এগিয়ে যায়, তখন সে নির্যাতনের কথা জানায়।

 

স্থানীয় কয়েকজন তরুণ বিষয়টি বুঝতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। দ্রুত চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এরপর, পুলিশ রোজিনাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে চরম অমানবিক নির্যাতনের চিত্র। রোজিনার বাবা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মামা রুবেল মোল্লা ও মামি রোকেয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রাতেই অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশ।

 

শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব হাসপাতালে যান রোজিনার পাশে দাঁড়াতে। তিনি রোজিনার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন, তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন এবং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।

 

আটকের পর আদালতে হাজির করা হয় রুবেল মোল্লা ও রোকেয়া বেগমকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামি রোকেয়া নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শাসন করার জন্য মাঝেমধ্যে সামান্য মারধর করতাম। এত বড় কিছু হয়নি।’ তবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চিহ্ন রোজিনার দেহে স্পষ্ট ছিল। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

 

চিকিৎসকের মতে, রোজিনার শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট, তবে সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। কিন্তু মানসিক আঘাত তাকে আজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে। সমাজের অসংবেদনশীলতার বলি হয়েছিল সে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আলো তার জন্য এসেছে।

 

এ ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি সমাজের চিত্র। এমন নৃশংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন। রোজিনার মতো আর কেউ যেন এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার না হয়, সেটাই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার।