
রাজনগর প্রতিদিন|আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মৌলভীবাজারের রাজনগরে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে আসা এক চীনা তরুণীকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উচ্চশিক্ষার জন্য চীন গিয়ে প্রেমে পড়া এবং অবশেষে সেই প্রেমের সফল পরিণতি টানলেন উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের যুবক সুকান্ত সেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে নববধূ ক্রিস হুইকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফেরেন তিনি।
যেভাবে শুরু এই প্রেমগাঁথা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামারচাক ইউনিয়নের স্বপন কুমার সেনের ছেলে সুকান্ত সেন উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে চীন পাড়ি দিয়েছিলেন। পড়াশোনা শেষে সেখানেই একটি চাকরিতে যোগ দেন তিনি। ২০২৩ সালে কর্মক্ষেত্রে পরিচয় হয় চীনের চিংহাই প্রদেশের তরুণী ক্রিস হুইয়ের সঙ্গে। পরিচয় থেকে শুরু হয় মন দেওয়া-নেওয়া। দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের পর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাদের বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও গ্রামবাসীর উচ্ছ্বাস
বিয়ের পর দেশটিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে আসতে কিছুটা দেরি হলেও, আজ দীর্ঘ সাত বছর পর নিজের জন্মভূমিতে পা রাখলেন সুকান্ত। তবে সাধারণ যানবাহনে নয়, নববধূকে নিয়ে তিনি আসেন আকাশপথে হেলিকপ্টারে। ভিনদেশি কনে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো উৎসুক মানুষ ভিড় জমান সুকান্তের বাড়িতে।
নববধূ ক্রিস হুই বর্তমানে স্বামীর সাথে চীনে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি দেখে তিনি মুগ্ধ ছিলেন এবং বাস্তবে এখানকার মানুষের আন্তরিকতায় তিনি অভিভূত।

“আমি আগে থেকেই বাংলাদেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতাম। এখানে এসে সবার ভালোবাসা দেখে আমি সত্যিই খুব খুশি।” — ক্রিস হুই, নববধূ
ধর্মীয় রীতিতে হবে আনুষ্ঠানিকতা
সুকান্তের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চীনে আইনি বিয়ে হলেও বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
- ২১ ফেব্রুয়ারি: গায়ে হলুদ।
- ২২ ফেব্রুয়ারি: স্থানীয় বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে বৈদিক রীতিতে বিয়ের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
সুকান্তের বোন ঐশী সেন, যিনি বর্তমানে চীনে অধ্যয়নরত, জানান যে তাদের পরিবার এই ভিনদেশি পুত্রবধূকে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। এদিকে গ্রামজুড়ে এখন একটাই আলোচনা— রাজনগরের ছেলের চীনা বউ।

Reporter Name 









