
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয়—সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে কে হচ্ছেন আগামী দিনের সংসদ সদস্য। এবারের নির্বাচনী ময়দানে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে লড়াই বহুমাত্রিক রূপ নিলেও, মাঠপর্যায়ের জরিপ ও জনমতের ভিত্তিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন আল ইসলাহ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদ।
জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীক

মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদ কুলাউড়ার রাজনীতিতে কোনো নতুন নাম নন। স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। তাঁর সমর্থকরা বলছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং আল ইসলাহ অনুসারীদের বড় একটি অংশ তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থীরা
মৌলভীবাজার-২ আসনে এবার লড়াই হবে মূলত চতুর্মুখী। আল ইসলাহ সমর্থিত শাহেদের জয়যাত্রা রুখে দিতে মাঠে আছেন আরও তিন প্রভাবশালী প্রার্থী:
১. শওকতুল ইসলাম শকু: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলীয় ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
২. নওয়াব আলী আব্বাছ খান: সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর নিজস্ব অনুসারী ও পারিবারিক ঐতিহ্য নির্বাচনী লড়াইকে রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
৩. ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী: জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী নিয়ে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
তৃণমূলের কণ্ঠস্বর
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরার একজন বৃদ্ধা বলেন-

> “কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী ফজলুল হক খান শাহেদ একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ। তাঁর জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। তাঁর নিজস্ব একটি বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এবার বিপুল ভোটে তিনি কুলাউড়ার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।”
>
অভিজ্ঞতা ও আগামীর অঙ্গীকার
নির্বাচনী প্রচারণার এক ফাঁকে নিজের লক্ষ্য ও জয়ের ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদ। তিনি বলেন:
> “আমি জনগণের ভোটে দুইবার ভাইস চেয়ারম্যান এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কুলাউড়ার প্রতিটি অলিগলি এবং মানুষের সমস্যা আমার নখদর্পণে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত এই বিশাল অভিজ্ঞতাকে আমি এখন জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আমি চাই কুলাউড়াকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে।”
>
তিনি আরও যোগ করেন, “কুলাউড়ার আপামর জনতা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁদের দোয়া ও সমর্থনেই আমি আজ এখানে। ইনশাআল্লাহ, নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, অতীতের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং এলাকার মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা ভোটের ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। সেই বিচারে মাওলানা ফজলুল হক খান শাহেদের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাঁকে অনেকটা সুবিধাজনক স্থানে রেখেছে।
তবে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটের দিনের সমীকরণই নির্ধারণ করবে কার গলায় উঠবে জয়ের মালা। এখন দেখার বিষয়, কুলাউড়াবাসী তাদের আগামী দিনের অভিভাবক হিসেবে কাকে বেছে নেয়।

Reporter Name 













