Dhaka , বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত। বালাইরমা খাসিয়া পুঞ্জিতে সাংসদ শওকতুল ইসলাম কে বিশাল সংবর্ধনা কুলাউড়ায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইউএনও’র অভিযান, ৮ মামলায় জরিমানা পবিত্র ঈদুল আযহা’র শুভেচ্ছা বার্তা। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কুলাউড়ার ওসিসহ ৩ পুলিশ সদস্যকে ডিআইজি পুরস্কার কুলাউড়ায় প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ ভাটেরা বাজার বণিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক ও শপথ অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট: ৩৮১ যানবাহন আটক, ২৬৭ মামলা ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা বাংলা এডিশনের সাংবাদিক জিলানী এর উপরে হামলার প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন মরহুম আলহাজ্ব সামছুল ইসলাম চৌধুরীর ঈসালে সওয়াব উপলক্ষে বিশাল মেজবানি অনুষ্ঠিত।

ইতিহাসের দর্পনে আলী আমজদের ঘড়ি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
  • ৬৯১ Time View

 

এম. আতিকুর রহমান আখই।
হজরত শাহজালাল (রহঃ) এর সৃতিধন্য সিলেট কিন ব্রিজের পাশেই অবস্থিত ১৫১ বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যের সৃতি স্বারক, নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ি।

বিগত ১৫১ বছরে সিলেটে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা দুর্ঘটনার নিরব সাক্ষী এই ঘড়িকে নিয়ে এখন উত্তপ্ত সিলেট। সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পএিকার শিরোনাম হচ্ছে ঐতিহ্যঘাথা এই ঘড়ি। সম্প্রতি গত জুলাই বিপ্লবে জীবন দানকারী বীর সেনানিদের সৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্তের প্রতি কারো কোন দ্বিমত না থাকলেও নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ির সামনে সৃতি স্তম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে সিলেটের মানুষ। সকলের একই প্রশ্ন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের এতো পতিত জায়গা থাকতে ১৫১ বছরের ঐতিহ্য, আলী আমজদ এর ঘড়ির সম্মুখে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যেশ্যটা কি?


গণমানুষের নিন্দার ঝড় ও সিলেট বাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে আলী আমজদ এর ঘড়ি ঘরের সামনে নির্মিত সৃতিস্থম্বের কাজ প্রশাসন স্থগিত করলেও সন্তুষ্ট নয় সিলেটের মানুষ। তাদের দাবী একটাই আর তা হচ্ছে অবিলম্বে নির্মিতব্য সৃতিস্থম্ব এখান থেকে সরিয়ে অন্যএ স্থানান্তরিত করা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে সিলেট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই ঘড়ির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। যখন ঘড়ির অবাধ প্রচলন ছিল না, সেসময় অর্থাৎ ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার (উত্তর সুরমা) কীন ব্রিজের ডানপার্শ্বে সুরমা নদীর তীরে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আহমদ খান, তার ছেলে আলী আমজদের নামকরণে। লোহার খুঁটির উপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির স্থাপত্যশৈলীর ঘড়িঘরটি তখন থেকেই আলী আমজদের ঘড়িঘর নামে পরিচিতি লাভ করে।

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে এই প্রাচীন ঘড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। স্বাধীনতার পর সিলেট পৌরসভা ঘড়িটি মেরামতের মাধ্যমে সচল করলেও কিছুদিনের মধ্যেই ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে আলী আমজদের ঘড়ি মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়। এসময় ঘড়িটি চালু করার পর ঢাকার একটি কোম্পানীর কারিগররা ঘড়িটি চালু রাখার জন্য রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করে দেয়। পৌর চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঘড়ির কাঁটা ঘুরতো। কিন্তু দুই-চার বছর যেতে না যেতেই ঘড়ির কাঁটা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সিজান কোম্পানীর দ্বারা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘড়িটি পূনরায় চালু করা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ঘড়িটির কাঁটা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই ঘড়িটিকে পূণরায় মেরামত করলে তা আবার দৈনিক ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সচল রয়েছে।

এই ঘড়িকে কেন্দ্র করে একটি স্থানীয় প্রবাদ চালু ছিল এরকম:

“ চাঁদনী ঘাটের সিড়ি, আলী আমজদের ঘড়ি, জিতু মিয়ার বাড়ী, বঙ্কু বাবুর দাড়ি। ”

ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়, নওয়াব আলী আমজদ এর উত্তরসুরী সাবেক সংসদ সদস্য জনাব নওয়াব আলী আব্বাস খান ও জনাব নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু জানান,ঐতিহাসিক এই ঘড়িটি আমাদের পুর্বপুরুষেরা দিলেও এখন এটা আর কোন পরিবারের বা গোষ্ঠীর নয়,এই ঘড়ি বৃহত্তর সিলেট বাসীর আবেগ,অনুভূতি ও ঐতিহ্যের জায়গা।তাই, সিলেট বাসীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার দ্রত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
লেখক
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নিরাপদ সড়ক চাই কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত।

ইতিহাসের দর্পনে আলী আমজদের ঘড়ি

Update Time : ০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫

 

এম. আতিকুর রহমান আখই।
হজরত শাহজালাল (রহঃ) এর সৃতিধন্য সিলেট কিন ব্রিজের পাশেই অবস্থিত ১৫১ বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যের সৃতি স্বারক, নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ি।

বিগত ১৫১ বছরে সিলেটে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা দুর্ঘটনার নিরব সাক্ষী এই ঘড়িকে নিয়ে এখন উত্তপ্ত সিলেট। সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পএিকার শিরোনাম হচ্ছে ঐতিহ্যঘাথা এই ঘড়ি। সম্প্রতি গত জুলাই বিপ্লবে জীবন দানকারী বীর সেনানিদের সৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্তের প্রতি কারো কোন দ্বিমত না থাকলেও নওয়াব আলী আমজদ এর ঘড়ির সামনে সৃতি স্তম্ব নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে সিলেটের মানুষ। সকলের একই প্রশ্ন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের এতো পতিত জায়গা থাকতে ১৫১ বছরের ঐতিহ্য, আলী আমজদ এর ঘড়ির সম্মুখে সৃতিস্থম্ব নির্মাণের উদ্যেশ্যটা কি?


গণমানুষের নিন্দার ঝড় ও সিলেট বাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে আলী আমজদ এর ঘড়ি ঘরের সামনে নির্মিত সৃতিস্থম্বের কাজ প্রশাসন স্থগিত করলেও সন্তুষ্ট নয় সিলেটের মানুষ। তাদের দাবী একটাই আর তা হচ্ছে অবিলম্বে নির্মিতব্য সৃতিস্থম্ব এখান থেকে সরিয়ে অন্যএ স্থানান্তরিত করা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে সিলেট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই ঘড়ির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। যখন ঘড়ির অবাধ প্রচলন ছিল না, সেসময় অর্থাৎ ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার (উত্তর সুরমা) কীন ব্রিজের ডানপার্শ্বে সুরমা নদীর তীরে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আহমদ খান, তার ছেলে আলী আমজদের নামকরণে। লোহার খুঁটির উপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির স্থাপত্যশৈলীর ঘড়িঘরটি তখন থেকেই আলী আমজদের ঘড়িঘর নামে পরিচিতি লাভ করে।

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে এই প্রাচীন ঘড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। স্বাধীনতার পর সিলেট পৌরসভা ঘড়িটি মেরামতের মাধ্যমে সচল করলেও কিছুদিনের মধ্যেই ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে আলী আমজদের ঘড়ি মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়। এসময় ঘড়িটি চালু করার পর ঢাকার একটি কোম্পানীর কারিগররা ঘড়িটি চালু রাখার জন্য রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করে দেয়। পৌর চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঘড়ির কাঁটা ঘুরতো। কিন্তু দুই-চার বছর যেতে না যেতেই ঘড়ির কাঁটা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সিজান কোম্পানীর দ্বারা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘড়িটি পূনরায় চালু করা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ঘড়িটির কাঁটা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই ঘড়িটিকে পূণরায় মেরামত করলে তা আবার দৈনিক ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সচল রয়েছে।

এই ঘড়িকে কেন্দ্র করে একটি স্থানীয় প্রবাদ চালু ছিল এরকম:

“ চাঁদনী ঘাটের সিড়ি, আলী আমজদের ঘড়ি, জিতু মিয়ার বাড়ী, বঙ্কু বাবুর দাড়ি। ”

ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়, নওয়াব আলী আমজদ এর উত্তরসুরী সাবেক সংসদ সদস্য জনাব নওয়াব আলী আব্বাস খান ও জনাব নওয়াব আলী ওয়াজেদ খান বাবু জানান,ঐতিহাসিক এই ঘড়িটি আমাদের পুর্বপুরুষেরা দিলেও এখন এটা আর কোন পরিবারের বা গোষ্ঠীর নয়,এই ঘড়ি বৃহত্তর সিলেট বাসীর আবেগ,অনুভূতি ও ঐতিহ্যের জায়গা।তাই, সিলেট বাসীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার দ্রত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
লেখক
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক।