
নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাটেরা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন, এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করছেন।
তাঁর পক্ষের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁর গণসংযোগকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচনে ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণ করবে।
সমাজসেবার অভিজ্ঞতা থেকে জনপ্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা
আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী ভাটেরা ইউনিয়নের হরিপুর সাত্তার শামেলা হাফিজিয়া এবতেদায়ী এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি তিনি বরমচালের সাত্তার কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী।
স্থানীয়ভাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, এতিমখানা ও মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়া অসহায় পরিবারের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহযোগিতা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতার কথাও স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়।
রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগিতার নজির রয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান

রাজনৈতিক অঙ্গনেও সম্প্রতি সক্রিয় হয়েছেন আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপিতে যোগদান করেন।
এ সময় মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিএনপিতে যোগদানের পর ভাটেরা ইউনিয়নকেন্দ্রিক তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও দৃশ্যমান হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে।
উন্নয়ন ভাবনায় যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
আব্দুল জব্বার সিদ্দিকীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর পরিকল্পনায় তরুণ সমাজের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও রয়েছে।
‘জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাই’
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী বলেন, ভাটেরা ইউনিয়ন তাঁর কাছে শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়; এই এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, “মানুষের সুখ-দুঃখ ও এলাকার সমস্যা-সম্ভাবনার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের কথা শুনে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা দরকার। জনগণের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকবে।”
আব্দুল জব্বার সিদ্দিকী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার পার্থক্য না করে ইউনিয়নের সব মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি ভাটেরা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভাটেরা ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর গণসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাটেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রও আরও স্পষ্ট হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী, মোবাইলঃ 01712-823054
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।