
বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট | মো. খালেদ আহমেদ
সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে সৈয়দ জেওলোয়ার হোসেন স্বপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি কখনো স্থানীয় সাপ্তাহিক ‘সকালের দিগন্ত’-এর সম্পাদক-প্রকাশক ও প্রতিনিধি এবং কখনো গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছিলেন স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. খালেদ আহমেদ।
হাসপাতালের প্রধান ফটকে সংস্কারকাজ চলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আনসার সদস্য নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ করলে সৈয়দ জেওলোয়ার হোসেন স্বপনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংবাদকর্মী মো. খালেদ আহমেদ বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তখন তার সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।
এ সময় নিজেকে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
ঘটনার পর সাংবাদিক মো. খালেদ আহমেদের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. খালেদ আহমেদ বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। ব্যক্তিগত স্বার্থে এ পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কিংবা দায়িত্বশীল পদধারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমানে কার্যকর কোনো কার্যনির্বাহী কমিটি নেই বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। ফলে বিলুপ্ত সংগঠনের পদবি ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, সৈয়দ জেওলোয়ার হোসেন স্বপন কখনো স্থানীয় পত্রিকা এবং কখনো জাতীয় পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তা পুরো পেশার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে মনে করছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।
তাদের মতে, কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্তে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ের বৈধতা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পদ-পদবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহলের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী, মোবাইলঃ 01712-823054
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।