খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার, মৌলভীবাজার:
পুলিশের যোগসাজশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখা। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে পুলিশ ও মামলার অভিযোগকারী।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন এনসিপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার আহ্বায়ক খালেদ হাসান, সদস্য সচিব রুহুল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান বিন জাকারিয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বিমল কুমার সিংহ।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে নেতাকর্মীরা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়েছিলেন। এ সময় আব্দুল্লাহ আল হোসাইন (জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক), কামরুল হাসান, জাবেদ রহমান ও শাফাকাত হোসেন সাদেকের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তারা দাবি করেন, দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি ও হামলার ঘটনাও ঘটে।
এনসিপি নেতাদের দাবি, কুলাউড়ার নির্ধারিত কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বিএফ শাহীন কলেজের সামনেও একই ব্যক্তিরা পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে তারা মৌলভীবাজারে ফিরে যান।
তাদের ভাষ্য, কুলাউড়ার কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল হোসাইনকে অপহরণের প্রচারণা চালানো হয় এবং পরবর্তীতে তাদের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়। সম্ভাব্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা এড়ানো এবং প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এ মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলায় এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তারা কেউ সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে অবগত নন এবং তাদের কোনো বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়নি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান বিন জাকারিয়া অভিযোগ করেন, মামলার অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল হোসাইনের সঙ্গে মৌলভীবাজার মডেল থানার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত প্রমাণ বা নথিপত্র নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুল্লাহ আল হোসাইন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক কিছু বিষয় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে তার থানায় যাওয়া-আসা ছিল। থানায় কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা তার মাধ্যমে থানার কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে মামলা দায়েরের অভিযোগ নাকচ করে মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, “মামলার আসামিরা নিজেদের রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। থানায় কোনো ধরনের অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হয় বা কোনো ব্যক্তি নিয়মিত অবস্থান করে এসব পরিচালনা করেন, এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাদের মতে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে দল ও নেতাকর্মীদের হয়রানির চেষ্টার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী, মোবাইলঃ 01712-823054
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।