
বড়লেখা প্রতিনিধি :
চা বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত ভোট নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া হয়ে উঠলেও ভোটের মাঠে চমক দেখাতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অরাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন আনজুমানে আল ইসলাহর নেতা মুফতি বেলাল আহমদ।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩১ হাজার। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন—
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু,
জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম,
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ,
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আব্দুন নুর তালুকদার,
গণফ্রন্টের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম
এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমদ (কাপ-পিরিচ)।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভীবাজার-১ আসনে এবারের নির্বাচন ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। বিএনপি ও জামায়াত প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমদ শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন। আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও এই আসনে দলটির একটি বড় রিজার্ভ ভোট রয়েছে। সেই ভোট যেদিকে যাবে, বিজয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কেউ কেউ প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থন চাইছেন। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর বিএনপি ও জামায়াতে যোগ দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
আঞ্চলিক দিক থেকেও ভোটের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াত, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, গণফ্রন্ট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়ি বড়লেখা উপজেলায়। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুর বাড়ি জুড়ী উপজেলায় হওয়ায় আঞ্চলিক সুবিধায় তিনি কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার-১ আসনের দুই উপজেলাতেই ফুলতলী পীর সাহেবের উল্লেখযোগ্য অনুসারী রয়েছে। ফুলতলী পীরের সমর্থন থাকায় তাঁর অনুসারীদের বড় একটি অংশের ভোট কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমদের পক্ষে যেতে পারে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি আওয়ামী লীগের একটি উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।
জায়ফরনগর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের ভোটার ইয়াছিন আলী বলেন,
“দেশে মূলত বিএনপি আর আওয়ামী লীগ—এই দুই দলই বড় শক্তি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় সবাই ধানের শীষে ভোট দেবে।”
অন্যদিকে একই ইউনিয়নের দ্বহপাড়া গ্রামের তরুণ সমাজকর্মী নোমান আহমদ বলেন,
“এবারের নির্বাচনে যুবসমাজ নতুন কিছু দেখতে চায়। পরিবর্তনের পক্ষে আমরা দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেব।”
আনজুমানে আল ইসলাহর ছাত্র সংগঠন তালামীযে ইসলামিয়ার উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন,
“মানুষ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চায়। মুফতি বেলাল আহমদকে ভোট দিয়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় জনগণ।”
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আজিম উদ্দিন বলেন,
“চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে।”
জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজি মাছুম রেজা বলেন,
“মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসীরা ধানের শীষে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোটও ধানের শীষের পক্ষেই যাবে—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

Reporter Name 








